আজ : মঙ্গলবার, ২রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জুলাই, ২০১৮ ইং, ২রা জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী, রাত ১২:৩৬,

দরদামের বৃত্তে ক্রেতারা, ময়মনসিংহে জমেনি গরুর হাট

Goru-Hat-mymensingh-Pic-2bg20160902082615ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ‘আগে গরু কিনলে লালন-পালনের ঝামেলা। হাটে তেমন গায়েক (ক্রেতা) নেই। এখনো কিনতে নয়, দরদাম যাচাই করতেই গরুর হাটে ক্রেতারা আসছেন। ফলে গৃহস্থ থেকে বেপারী কারো হাঁকডাঁক নেই।’

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া পশুর হাট এখনো জমে না উঠার কথাই জানালেন শিতি গৃহস্থ রায়হান।

কলেজ পড়ুয়া এ শিক্ষার্থীর বাড়ি দাপুনিয়ার লীপুর গ্রামে। কোরবানির হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যেই দেশি দু’টি ষাঁড় গরু এতোদিন লালন পালন করেছেন এ তরুণ।

প্রতিটি ষাঁড়ের মূল্য হেঁকেছেন ৬০ হাজার টাকা করে। কিন্তু দরদাম করেই ক্রেতারা ফিরে যাচ্ছেন।

হাট জমে উঠলেই কাঙ্খিত দাম পাবেন এ চিন্তায় দু’টি গরুই শেষ পর্যন্ত ধরে রাখার চিন্তা রয়েছে রায়হানের। ঝুঁকি থাকলেও রায়হানের পথেই হাঁটছেন স্থানীয় গোস্টা চরপাড়া এলাকার গৃহস্থ দুলাল মিয়া (৫০) থেকে শুরু করে বেশিরভাগ গৃহস্থ ও বেপারীই।

কম দামে গরু বিক্রি করতে রাজি নন তারাও। তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে গরু বেচাবিক্রিও তখন বাড়বে, হাট পুরোমাত্রায় জমে উঠবে, এমন মত দিলেন অনেকেই।

হাটে হাসিল আদায়ের দায়িত্বে থাকা কামরুল ইসলাম জানান, দুপুর থেকে রাত নাগাদ ৪০ থেকে ৫০ টি গরু বিক্রি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা সদরের এ কোরবানির পশুর হাট ঘুরে দেখা মেলেনি কোন মেডিকেল টিমের। ফলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই চলছে এ হাট। এ নিয়ে অসন্তুষ্ট হাটে আসা ক্রেতারা।

জানা যায়, ময়মনসিংহ নগরীর কোরবানির পশুর সবচেয়ে বড় হাট সার্কিট হাউজ মাঠ। ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের নির্দেশে এবারো মাঠের বদলে পাশের আবুল মনসুর সড়কেই বসতে যাচ্ছে এ হাট। বরাবরের মতো এবারো ঈদের দিন চারেক আগে এই হাট বসবে।

এ হাটের পাশাপাশি সদর উপজেলার দাপুনিয়া ও শম্ভুগঞ্জ বাজার এলাকার হাটেই এখানকার বাসিন্দারা গরু কিনে থাকেন। কিন্তু দুয়ারে ঈদ কড়া নাড়লেও দাপুনিয়া বাজার হাটে গরু বিক্রি অনেক কম। তবে হাটটিতে দেশি গরুর আধিক্য দেখা গেছে।

‘কোরবানির ঈদের এখনো মেলা দিন বাহি (বাকী)। বাড়িতে জায়গা না থাকায় বেশিরভাগ ক্রেতাই আগুইল্লা (আগেভাগে) গরু কিনে না।

কয়েক দিন পর জমবো হাট’ ক্রেতাদের বাসা-বাড়িতে জায়গা সঙ্কটও যে হাট না জমার প্রধান কারণ তা ভার মুখে বললেন স্থানীয় উজান ঘাগড়া এলাকার বেপারী শফিকুল ইসলাম (৩৫)।

এ হাটে শফিকুলের শাহিওয়াল জাতের এ গরুটিই সেরা। ফলে সবচেয়ে বেশি দেড় লাখ টাকা দামও হাঁকা হয়েছে গরুটির। তবে এক লাখ পঁচিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা দাম পেলেই গরুটি ছেড়ে দেবেন বলেও জানান।

গরু মোটাতাজা করতে কোন ওষুধ প্রয়োগ করেননি বলেও দাবি করেন শফিকুল। তার ভাষ্যে, ‘ক্ষতিকর ভিটামিন খাওয়ালে গরু টিকবো না। লালা ছাইড়া দিবো। কিন্তু ভাত আর ভুষি খাওয়ানোর ফলে এ গরু একদম ফিট।’

এ হাটে গরু দেখতে এসেছেন নগরীর চরপাড়া মোড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন। তিনি দৈনিক সোনালী দেশকে জানান, ক্রেতারা অতিরিক্ত দাম চাচ্ছেন। আগেভাগে গরু কিনলেও সমস্যা। সামনে আরো অনেক হাট রয়েছে। তাই দাম পরখ করতেই মূলত হাট ঘুরছেন।

বৃহস্পতিবারের (০১ সেপ্টেম্বর) কয়েক দফার বৃষ্টিতেও হাটে কাদা আর গরুর গোবর মিশে একাকার হয়ে যায়। এতে করে হাটে চলাচলও দায় হয়ে পড়ে ক্রেতাদের। সংশ্লিষ্ট ইজারাদার আরজু আহাম্মেদ হাটে উঠা গরুকে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে কোন ত্রিপলেরও ব্যবস্থা করেননি।

এমনকি মাঠেও কাদা নিরসনে বালু ফেলার উদ্যোগ না নেয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই। এসব বিষয়ে কোরবানির পশু বিক্রির হাসিল আদায় করা কামরুল ইসলাম জানান, বিক্রি বাড়লে সব ব্যবস্থাই নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এসএসসিতে পাসের হার ৭৭.৭৭%

Share চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ১০ শিক্ষা বোর্ডে গড়ে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। রবিবার ...

লোটাস কামালের দুর্গে বিএনপির দুই ভূঁইয়ার দ্বন্দ্ব!

Share নাঙ্গলকোট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন, নবগঠিত লালমাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে কুমিল্লা-১০ আসন। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্যতম বড় আসন এটি। আসনের প্রতিটি ...