আজ : শুক্রবার, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং, ১৬ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী, রাত ১১:৩১,

কোরবানিকৃত পশুর চামড়ার উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ হোক

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন:

দেশের চামড়া শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচা চামড়ার অর্ধেকের বেশি শুধু কোরবানির পশুর চামড়া থেকে সংগৃহীত হয়। আর ব্যবসায়ীরা এ সময়ে কম দামে সম্ভব চামড়া কেনার চেষ্টা করেন। এবারও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কাঁচা চামড়ার দাম কমাতে তৎপর চামড়া ব্যবসায়ীরা। গত বছর ঢাকায় প্রতি বর্গফুট কোরবানির গরুর কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করা ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। এ ছাড়া প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম ছিল ২২ থেকে ২৫ টাকা। এর আগের বছর ঈদের সময় গরুর কাঁচা চামড়ার নির্ধারিত মূল্য ছিল প্রতি বর্গফুট ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং খাসির ২০ থেকে ২২ টাকা। লক্ষ করা যাচ্ছে, প্রতি বছরই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার কথা বলে চামড়ার দাম কমাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। চামড়ার দাম এই হারে কমতে থাকলে দেশের চামড়ার বাজার যেমন একেবারেই পড়ে যাবে, অন্যদিকে চামড়া পাচার হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যাবে। এই আশঙ্কার কথা স্বয়ং বাণিজ্যমন্ত্রীও ব্যক্ত করেছেন। ফলে ধারাবাহিকভাবে চামড়ার দাম কমানো হলে শুধু বিক্রেতারা কম দাম পাবেন এমনটা নয়; দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর মতে, প্রতি বছর দেশের চামড়ার রফতানি বাজার ১০-১৫ শতাংশ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিটি পণ্যের ন্যায় চামড়ার দামও প্রতি মাসেই সামান্য পরিমাণে ওঠানামা করে। বিভিন্ন পণ্যের দাম সরবরাহকারী সংস্থা ইনডেক্সমুডির তথ্য অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দামের খুব একটা হেরফের হয়নি। এ থেকে আমার মনে হয়, আসলে বড় ব্যবসায়ীরা নিজেরাই দালাল-ফড়িয়াদের মাধ্যমে সস্তা দরে কাঁচা চামড়া কিনে মজুদ গড়ে তোলেন এবং পরে ওই চামড়া ফিনিশড অথবা প্রক্রিয়াজাত পণ্য হিসেবে বেশি দামে রফতানি করে নিজেদের পকেট ভারি করেন। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা এবং সেই সঙ্গে কোরবানিদাতারাও দাম কম পান।
অন্যদিকে ট্যানারি মালিকদের কাছে বিপুল অঙ্কের টাকা বকেয়া পড়ে থাকায় অনেক সাধারণ চামড়া ব্যবসায়ীরা মূলধন সঙ্কটে ভুগছেন। মূলধন সঙ্কট থাকলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা পুঁজির অভাবে চাহিদা অনুযায়ী চামড়া কেনার সক্ষমতা হারাবেন-তা বলাই বাহুল্য। সরকারকে তাদের স্বার্থের দিকটিও দেখতে হবে। এজন্য কেবল চামড়ার মূল্য নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না; দেশের সাধারণ ব্যবসায়ীরা যেন লোকসানের মুখে না পড়েন, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তা না হলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা চামড়া পাচারের দিকে ঝুঁকবেন, এ আশঙ্কা রয়েই যাবে।
এখানে আরও একটি উল্লেখযোগ্য মানবিক বিষয় হল, কাঁচা চামড়ার দাম কমলে ফড়িয়া, আড়তদার, ট্যানারি মালিক তথা কোরবানিদাতা নয়, প্রকৃতপক্ষে গরিব দুস্থ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোরবানির পশুর চামড়ার বিক্রয়লব্ধ টাকা এতিমখানা ও গরিব-দুস্থদের দান করা হয়। তাই চামড়া শিল্পের প্রবৃদ্ধি ও রফতানি আয় বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনায় রাখার সঙ্গে সঙ্গে দুস্থ জনসাধারণ বিশেষত এতিম ও গরিবদের প্রকৃত কল্যাণের জন্য কোরবানির চামড়ার উপযুক্ত দাম নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
আরও একটি বিষয় এখানে উল্লেখযোগ্য, দেশে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা বাড়াতে পারলে এ শিল্প যেমন রফতানির সঙ্গে সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেও আরও আয় করতে পারবে, সেই সঙ্গে দেশে চামড়ার উপযুক্ত দামও নিশ্চিত করা যাবে। তাই বিশ্ববাজার ও অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে চামড়ার উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ করা দরকার। আমরা এ ব্যাপারে সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই।

লেখক: মোহাম্মদ আলাউদ্দিন
সম্পাদক- দৈনিক সোনালী দেশ
prodipnews@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অজগর দিয়ে শরীর ম্যাসাজ!

Share চেহারা সুন্দর রাখতে আমরা কত কিছুই না করি! ত্বককে আরাম দিতে মাসে এক বার হলেও স্পা, নানা রকম উপাদেয় দিয়ে স্বাস্থ্যকর ম্যাসাজ করে থাকি। কখনো কি শুনেছেন, একটা অাস্ত অজগর দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করার কথা? ঠিক ...

অনাথ, অসহায়ের শাসনকর্তা হতে চাই: ইমরান

Share ভোটগণনায় ইমরানের ক্ষমতায় আসা প্রায় নিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত ১৩৭-এর ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পারলেও বিলাবল জারদারির পিপিপি-র সঙ্গে জোটের রাস্তাও প্রায় পাকা। ফলে পাক প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন ...