আজ : বুধবার, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ১৫ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী, সকাল ১১:৩৬,

নারীর অধিকার; সমধিকারের নামে অগ্রাধিকার নয়! -মোহাম্মদ আলাউদ্দিন

– মোহাম্মদ আলাউদ্দিন

সম্প্রতি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলা সদরের একটি স্কুলে বার্ষিক ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমণন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগদান করি। ঐ অনুষ্ঠানে স্কুলের নবম শ্রেণির ছেলেমেয়ে তথা নারী-পুরুষ সমধিকারের জন্য গণসচেতনতামূলক একটি অভিনয় প্রদর্শন করে। সেই অভিনয়ে ফুটে ওঠে স্বাধীনতা পূর্ব বাংলাদেশে নারীর অবহেলা ও বঞ্চনার চিত্র। যখন নারীরা ছিল সম্পূর্ণরূপে অবহেলিত। তাদের কাজ করতে হতো দাসীর মতো। অন্যদিকে খাওয়া-দাওয়া, চাওয়া-পাওয়াসহ সর্বক্ষেত্রেই পুরুষদের অগ্রাধিকার বজায় ছিল। নারী-পুরুষের সেই আকাশ-পাতাল ব্যবধান এখন আর দেখা যায় না। নারীর প্রতি সেই অবহেলাও আজ আর নেই। উপরন্ত আজকের এই সমাজে পুরুষরাই তাদের প্রাপ্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার নারী-পুরুষের সমধিকারের কথা বললেও সেটা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান সমাজে নারীরা সর্বক্ষেত্রেই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। একটু বিশ্লেষণ করলেই বিষয়টি চোখের সামনে ভেসে উঠবে। আমি সংক্ষেপে পাঠকদের সামনে তুলে ধরছি।

শিক্ষা ক্ষেত্রে : শিক্ষাক্ষেত্রে সব সময়ই নারীদের পুরুষদের চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিতরণ করা বৃত্তির ৭০ শতাংশই মেয়েদের প্রদান করা হয়। আর ছেলেরা প্রায় মাত্র ৩০ শতাংশ। এতে করে ধনীর দুলালীরা শিক্ষা বৃত্তি পেলেও নারীদের অগ্রাধিকার দেয়ার ফলে অনেক অসহায়-দরিদ্র মেধাবী ছেলেই সেই শিক্ষা বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয় । যারা একদিন পড়ালেখার খরচ বহন করতে না পেরে বিপথগামী হয়। তাহলে এটা কোন ধরনের সমধিকার? তাই নারী-পুরুষ সমধিকারের জন্য সকল শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হোক।

প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে : শিক্ষা ক্ষেত্রে ছেলেদের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পর প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে একজন মেয়েকে এইচএসসি পাস হলেই চলে। অথচ ছেলেদের পাস করতে হয় ডিগ্রি, অনার্স বা সমমান। এতে দেখা যায়, একই চাকরির জন্য মেয়েদের চেয়ে একজন ছেলেকে ৪-৬ বছর বেশি পড়ালেখা করতে হয়। এখানেই শেষ নয়! প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে কম যোগ্যতাসম্পন্ন হলেও ৬৫ শতাংশ মহিলা শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। আর বেশি যোগ্যতা থাকলেও পুরুষ শিক্ষক নেয়া হয় মাত্র ৩৫ শতাংশ। এতে করে সব ধরনের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নারীদের অগ্রাধিকার নামক অভিশাপের কবলে পড়ে অনেক পুরুষ চাকরি বঞ্চিত হয়। তাই এক্ষেত্রেও সমযোগ্যতা সম্পন্ন সমসংখ্যক নারী-পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হোক।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে : ফায়ার সার্ভিস ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় সব সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত রাখা হয়। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রেই সেই ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকে। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যদি আমরা সমধিকারে বিশ্বাসী হই তবে এই কোটা কেন? তাই নারী-পুরুষ সমধিকারের লক্ষ্যে নারীদের সংরক্ষিত কোটা বাতিল করা হোক। এছাড়া যাতায়াতের ক্ষেত্রে পাবলিক বাসগুলোতেও তাদের জন্য সিট সংরক্ষিত থাকে (এটা নিয়ে দ্বিমত নেই)।

আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে : স্বাধীনতা পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের হার ছিল অনেক বেশি। সেই কারণে নির্যাতন প্রতিরোধে ও নির্যাতনকারীকে শাস্তি প্রদানে মহিলাদের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন নামে একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু বর্তমান সমাজে নারী নির্যাতনের চেয়ে পুরুষরাই বেশি নির্যাতিত হচ্ছে। তবে, এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশে পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে বা নির্যাতনকারীকে শাস্তির আওতায় আনতে কোনো আইন প্রণয়ন করা হয়নি। যদি আমরা সমধিকারে বিশ্বাসী হই, তবে পুরুষদের জন্যও পুুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হোক।

এ রকম আরো অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। যা কখনোই সমধিকারের আওতায় পড়ে না। এভাবে চলতে থাকলে একদিন এ সমাজে পুরুষরা কোনো কথাই বলতে পারবে না। তাই, সমধিকারের নামে আর কাউকে অগ্রাধিকার নয়! শুধু উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির ক্ষেত্রে নয়, সর্বক্ষেত্রেই নারী-পুরুষ সমধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নতুন পরিচয়ে বাংলাদেশ!

Share উৎক্ষেপণে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, চলছে ক্ষণগণনা দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ স্থানীয় সময় মধ্যরাতে কক্ষপথের উদ্দেশে উড়তে পারে। ইতোমধ্যে তার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ...

‘যে পুরুষই আমাকে লাঞ্ছিত করেছে, সেই আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে -তসলিমা নাসরিন

Share এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগেও বন্ধ রাখা হয়েছিল নোবেল। কিন্তু যৌন কেলেংকারীর জন্য এই প্রথম। সুইডিশ অ্যাকাডেমির সদস্যরা প্রতি বছর সাহিত্যে নোবেল দেওয়ার জন্য সাহিত্যিক নির্বাচন করেন। কিন্তু ...