আজ : রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৮ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী, রাত ১২:০১,

লোটাস কামালের দুর্গে বিএনপির দুই ভূঁইয়ার দ্বন্দ্ব!

নাঙ্গলকোট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন, নবগঠিত লালমাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে কুমিল্লা-১০ আসন। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্যতম বড় আসন এটি।

আসনের প্রতিটি উপজেলা সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একক নেতা হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল)। এলাকায় উন্নয়নের বিপ্লব ঘটিয়ে দল-মত-নির্বিশেষে সবার কাছে নিজের অবস্থান তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও সুসংগঠিত। তাই বলা চলে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ আসনে মুস্তফা কামালই দলটির একমাত্র শক্তিশালী প্রার্থী।
অন্যদিকে গ্রুপিং আর কোন্দলে জর্জরিত সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি। তৃণমূলে জনপ্রিয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়ার সঙ্গে টক্কর দিতে গিয়ে দলের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করেছেন বিএনপির আরেক নেতা মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। বলা যায়, দুই ভূঁইয়ার দ্বন্দ্বে এই আসনে দিশাহারা বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে পাল্লা দিতে জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও লেবার পার্টির অন্তত আধাডজন সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে তৎপর। তাঁদের অধিকাংশ নতুন মুখ।
কুমিল্লা-১০ আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার ১২৮ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার নাঙ্গলকোটে। সম্প্রতি আসনটির সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড ছিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার অংশ। এসব ওয়ার্ড এ
আসন থেকে এবার বাদ দিয়ে কুমিল্লা সদর (কুমিল্লা-৬) আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা-১১) স্বতন্ত্র সংসদীয় আসন ছিল। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লায় একটি আসন কমাতে গিয়ে আসনটির সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তখন নাঙ্গলকোটের ১২টি ইউনিয়ন ও সদর দক্ষিণ উপজেলার একাংশ (৬টি ইউনিয়ন) নিয়ে কুমিল্লা-১০ আসনটি করা হয়। দশম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনটিতে আবারও পরিবর্তন করা হয়। ওই সময় নাঙ্গলকোটের ১২টি ইউনিয়ন, সদর দক্ষিণের ১৪টি ইউনিয়ন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে আসনটি পুনর্গঠন করা হয়।

সাবেক কুমিল্লা-১১ (নাঙ্গলকোট) আসনে ১৯৯১ সালে পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী ডা. এ কে এম কামরুজ্জামান এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া সংসদ সদস্য হন। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-সদর দক্ষিণের একাংশ) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আ হ ম মুস্তফা কামাল । ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবার সংসদ সদস্য হন।
এর আগে ১৯৯১ সালে সাবেক কুমিল্লা-৯ আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। একই আসনে ১৯৯৬ সালে মুস্তফা কামাল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগ : বর্তমান সংসদ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মুস্তফা কামাল নাঙ্গলকোট উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। উপজেলাটির শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। উপজেলা সদরের হাসান মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ও এআর মডেল হাই স্কুলকে সরকারি করা হয়েছে। নাঙ্গলকোট পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে পৌর এলাকাসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্কুল-কলেজে নতুন ভবন নির্মাণ, মক্তব-মসজিদ-মাদরাসা ও মন্দিরের ব্যাপক উন্নয়ন ও সংস্কার হয়েছে। শুধু তাই নয়, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলার ১৫ ইউনিয়নেও ঘটেছে ব্যাপক উন্নয়ন। জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি অনযায়ী কুমিল্লা সদর দক্ষিণের আটটি ইউনিয়ন ও লাকসামের একটি ইউনিয়ন নিয়ে লালমাই নামে নতুন একটি উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মুস্তফা কামালের কল্যাণে। কুমিল্লায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), লালমাই কলেজকে সরকারীকরণ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে তাঁর কারণে। লালমাই ও সদর দক্ষিণ উপজেলার মধ্যস্থানে আইটি পার্ক স্থাপনে জমি অধিগ্রহণের কাজও শেষ হয়েছে। লালমাই-ময়নামতী এলাকায় পাহাড়ে বসবাসকারীদের জীবনমান উন্নয়নে সাড়ে ৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলমান।

নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের যগ্ম আহ্বায়ক আবু ইউসুফ ভুঁইয়া বলেন, ‘মুস্তফা কামালের মতো একজন দক্ষ নেতা ও শিক্ষারত্ন আমাদের আসন থেকে টানা দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, এটা আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়; দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও যাঁর কোনো দুর্নাম নেই। তিনি দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। অতীতে এই আসনের সব সংসদ সদস্য যা করতে পারেননি, লোটাস কামাল একাই তার চেয়ে অনেক বেশি করেছেন।’ মুস্তফা কামালের যোগ্য নেতৃত্বের কারণে তিন উপজেলার স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে দলের নেতারা নির্বাচিত হয়েছেন জানিয়ে আবু ইউসুফ বলেন, ‘তাঁর নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরাও সুসংগঠিত। তিনিই আগামী নির্বাচনে আমাদের একমাত্র কাণ্ডারি।’

নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক সুমন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতা হওয়ার পরও আ হ ম মুস্তফা কামালের মধ্যে কোনো অহংকার নেই। এলাকার সাধারণ মানুষ সুখে-দুঃখে সব সময় তাঁকে কাছে পায়। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ চাইলে যেকোনো সময় লোটাস কামালের সঙ্গে দেখা করতে পারে। তিনি এলাকায় গণমানুষের নেতায় পরিণত হয়েছেন।’
সদর দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মালেক বলেন, ‘আ হ ম মুস্তফা কামাল বর্তমান সরকারের একজন দক্ষ ও সৎ মন্ত্রী। তিনি শুধু উন্নয়ন নয়, এলাকায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন। তিনি আমাদের একমাত্র প্রার্থী।’
পরিকল্পনামন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, তাঁর সংসদীয় এলাকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। আগে তিনি মানুষকে স্বপ্ন দেখালেও এখন মানুষ তাঁকে স্বপ্ন দেখায়। তিনি আশা করেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণ উন্নয়নের পক্ষেই থাকবে। নিজ আসনে তাঁকেই আবার নির্বাচিত করবে বলেও তিনি আশাবাদী।

বিএনপি : কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আবদুল গফুর ভূঁঁইয়া, নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এবং যুক্তরাজ্য বিএনপি ও আইনজীবী ফোরামের উপদেষ্টা সলিসিটর মো. ইকরামুল হক মজুমদার। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীও এই আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। মনিরুল হক চৌধুরীর বাড়ি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াগ্রামে, যা বর্তমানে কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের অন্তর্ভুক্ত। সে কারণে তিনি ওই আসন থেকেই মনোনয়ন পাওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে বিএনপি নেতা ডা. এ কে এম কামরুজ্জামান নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। পরে ১৯৯৮ সালে নাঙ্গলকোটে বিএনপির হাল ধরেন আবদুল গফুর ভূঁইয়া। ২০০১ সালে সাবেক কুমিল্লা-১১ (নাঙ্গলকোট) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। নাঙ্গলকোটের যোগাযোগব্যবস্থা, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও বিদ্যুতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি। এক-এগারোর (২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ) একটি মামলায় জেলে যান তৎকালীন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল গফুর ভূঁঁইয়া। ওই সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও একসময়ে গফুরের আস্থাভাজন মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে বিএনপিতে আলাদা একটি পক্ষ তৈরি করেন। সেই থেকে নাঙ্গলকোটে বিএনপির দুর্গে ফাটল দেখা দেয়।
২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রথমে গফুর ভূঁইয়াকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে যে পরে ওই নির্বাচনে মোটা অঙ্কের টাকায় মনোনয়ন বাগিয়ে নেন মোবাশ্বের ভূঁইয়া। কিন্তু ওই নির্বাচনে মোবাশ্বের আলম আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে পরাজিত হন। এরপর শুরু হয় দুই ভূঁইয়ার জোরালো গ্রুপিং। একপর্যায়ে সাংগঠনিক স্থবিরতার কারণে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করে। সদর দক্ষিণ উপজেলায়ও বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার দূরত্ব রয়েছে। তবে এখানে গফুর ভূঁইয়ার প্রতি বিএনপি নেতাকর্মীদের আস্থা রয়েছে। অন্যদিকে নাঙ্গলকোটের বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরীর যোগযোগ নেই বললেই চলে।
নেতাকর্মীদের দাবি, নির্বাচনী লড়াই করতে হলে তৃণমূলে জনপ্রিয় নেতা গফুর ভূঁইয়ার কোনো বিকল্প নেই।

নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নয়ন বলেন, ‘সাধারণ মানুষ ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা নেতা হিসেবে গফুর ভাইকে মানে, তাঁকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়। মোবাশ্বের ভাইও দলের মনোনয়ন চান। মোবাশ্বের ভাইয়ের টাকা একটু বেশি আছে, আর গফুর ভাইয়ের জনপ্রিয়তা। এখন দলের হাইকমান্ড ঠিক করবে কাকে মনোনয়ন দেবে—টাকাকে দেবে, নাকি জনপ্রিয়তাকে।’

উপজেলার মক্রবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাজহারুল ইসলাম ছুপু বলেন, ‘গফুর ভূঁইয়ার নেতৃত্বে আমাদের সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ। দল-মত-নির্বিশেষে তিনি সকলের কাছে জনপ্রিয়।’

বিএনরি মনোনয়নপ্রত্যাশী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আবদুল গফুর ভূঁইয়া বলেন, ‘সবখানেই দলের একাধিক প্রার্থী থাকে। তবে যাঁর পেছনে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আছে, যাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ মাঠে থাকবে, তাঁকেই বেছে নিতে হবে দলকে। এই আসনটি হলো বিএনপির ভোটব্যাংক, তবে আসনটি ফিরে পেতে হলে, যিনি তৃণমূলের নেতা তাঁকেই মনোনয়ন দিতে হবে দলের নীতিনির্ধারকদের। আমাকে যদি বিএনপি মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে এই আসনটি দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে উপহার দেব, ইনশাআল্লাহ।’

মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। ১০ মামলার আসামি হয়ে একাধিকবার জেলে যেতে হয়েছে আমাকে। আমার এক হাজারের মতো নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলার আসামি। দলের দুঃসময়ে আমি তাদের পাশে আছি।’ তিনি বলেন, ‘৩২টি ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠন কমিটি আমার নেতৃত্বে সুসংগঠিত রয়েছে। আগামী নির্বাচনে দল মনোনয়ন দিলে আমি বিএনপিকে এই আসনটি উপহার দিতে পারব।’

দুই ভূঁইয়ার পাশাপাশি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা, সামাজিকতা ও ত্যাগী রাজনীতিবিদ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপি ও আইনজীবী ফোরামের উপদেষ্টা সলিসিটর মো. ইকরামুল হক মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। মনোনয়ন পেলে ইনশাআল্লাহ নির্বাচনে জয়ী হয়ে মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করব।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি গ্রুপিংমুক্ত রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। গ্রুপিং না করে নেতৃবৃন্দ একজোট হয়ে যদি কাজ করেন, তাহলে বিএনপির এই নিশ্চিত আসনটি হারানোর শঙ্কা থাকবে না।’

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি কুমিল্লা-৬ ও কুমিল্লা-১০ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চাইব। তবে আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল কুমিল্লা সদরে নির্বাচন করা। আল্লাহ পাক এবার আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছেন। আমি সদর আসন থেকে নির্বাচন করতেই বেশি আগ্রহী। কারণ কুমিল্লা শহরকে নিয়ে আমার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা রয়েছে।’

অন্যান্য : বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা খুবই নাজুক। এ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী নাঙ্গলকোট উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলী আহম্মদ মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন।

জামায়াতের নেতাকর্মীরা জানায়, অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত ড. দেলোয়ার হোসেন ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী। জোটগতভাবে নির্বাচন করলে জামায়াত আসনটি চাইবে। তবে সম্ভাব্য দুই প্রার্থীই ঢাকায় থাকেন বলে জানা গেছে। এলাকায় তাঁদের খুব একটা পরিচিতিও নেই।
২০ দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী এ আসন থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

কালেরকন্ঠ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রাজশাহীর মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন!

Share নজরুল ইসলাম তোফা:: রাজশাহীকে বদলে দেয়ার অঙ্গীকার নিয়ে ইতোমধ্যেই ক্ষমতাশীন দলের নেতা এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন সহ অনেক নেতা কর্মীরা মিলিত হয়ে যেন জয়ের হিসাব নিকাশ কষে নির্বাচনী প্রচারণায় চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজশাহী মহা ...

নাঙ্গলকোট রাইটার্স এসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

Share স্টাফ রির্পোটার: লেখক-সাহিত্যিকদের প্রিয় সংগঠন নাঙ্গলকোট রাইটার্স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে লাকসাম পৌরশহরস্থ স্বদেশ রেস্তোরা মিলনায়তনে ইফতার মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন অনুষ্ঠিত হলো ১ জুন শুক্রবার। সংগঠনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসাইন মিয়াজীর প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় ও সংগঠনের ...