আজ : বৃহস্পতিবার, ৬ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০১৯ ইং, ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী, সকাল ৮:০১,

বড় লোকদের তুঘলকি কাজ কারবার প্রেক্ষিত জরিনাদের জীবন সংসার

মোঃ আনোয়ার হোসেন ফারুক
.
মাস ছয়েক আগের কথা। জুমার নামাজ পড়ে আমি আর আমার বড় ছেলে বাসায় ফিরছি। আমাদের বাসার ঠিক উত্তর দিকের তিনটে বাসা পর একটা বাসার সামনে বিশাল ট্টাক বোঝাই ফার্নিচার। দেখে ভাবলাম কোন বড় লোক হয়ত বাসা পরিবর্তন করছেন। এই সময় অনেকে ছেলে মেয়েদের তুলনামুলক ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর জন্য ভাল জায়গায় বাসা পরিবর্তন করেন। আবার অনেক চাকুরীজীবী চাকরী বদলিজনিত কারণেও বাসা পরিবর্তন করে থাকেন। বলা যায়, ডিসেম্বর জানুয়ারী বাসা পরিবর্তনের মহা হিড়িক কমবেশি সব শহর নগরে হয়ে থাকে। পরে দেখি স্বয়ং বাড়ির মালিক জনাব আলতাফ হোসেন নিজেই দাঁড়িয়ে ফার্নিচার বোঝাই গাড়ি তদারকি করছেন। একটু কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আংকেল এগুলো কই যাবে? আংকেল একগাল হাসি দিয়ে বললেন এগুলো আমার মেয়ের শ্বশুরালয়ে যাবে। উনার হাতের লিস্ট অনেকটা গর্বভরে আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন দেখেন এই তালিকা। উনার হাতের লিখা আমার মত কম শিক্ষিত লোকের পক্ষে পড়া অনেকটা কষ্টকর হলেও একনজর চোখ বুলিয়ে দেখলাম খাট, আলমিরা, সোফা, শোকেচ, আলনা, ফ্রিজ, চেয়ার, টেবিল, সিলিং ফ্যান, চার্জার ফ্যান, ডিনার সেট, থালা বাসন, লেপ, কম্বল, তোষক, বালিশ, হাঁড়ি পাতিলসহ মাত্র একশ ত্রিশটা আইটেম! ভাবছি, হয়ত আংকেলের মেয়েকে যেখানে বিয়ে দিয়েছেন তাদের ঘরে ইতিপূর্বে কোন মাল সামানা কিছুই ছিল না। এই আংকেল বন্দরের চতুর্থ শ্রেণীর একজন কর্মচারী সাথে অবশ্য বড় পদের শ্রমিক নেতাও। তালিকাটা আংকেলের হাতে ফেরৎ দিতে আবারো গাল ভরা হাসি দিয়ে আংকেল বললেন কিছু বাদ পড়েনিতো? আমি বললাম না, আংকেল বাদ পড়বে কেন? আপনার মত চৌকষ লোকের চোখ কী কোন জিনিস ফাঁকি দিতে পারে? আংকেল আবার স্ব আগ্রহেই বললেন টোটাল তিন লাখ টাকার ফার্নিচার পাঠাচ্ছি, বিয়েতেতো প্রায় আট দশ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আমি এবার আমার বড় ছেলের দিকে গভীরভাবে তাকালাম। না, সে এখনো অনেক ছোট, মাত্র ক্লাস ফোরে পড়ে! আজ অফিস থেকে বাসায় ফিরতে দেখি ওই আংকেলের বাসার সামনেই মাঝারী সাইজের এক পিকাপ মওসুমী ফল। নজরে যা পড়লো বেশির ভাগ তরমুজ আনারস আর কাঁঠাল, বাজারে অন্য ফলের ধুম পড়লেও কাঁঠালের আধিক্য এখনো নজরে পড়ছে না। আংকেল হয়ত অনেক মোটা অংকের টাকায় প্রাথমিক সিজনের কাঁঠালগুলো কিনছেন। ফল বোঝাই পিকাপ দেখে ভাবছি আংকেল হয়ত চাকরী থেকে অবসর নিয়ে ফলের ব্যবসা শুরু করছেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, এই পিকাপ বোঝাই ফলও যাচ্ছে আদররের সোহাগী কন্যার শ্বশুরালয়ে। বাসার দিকে হাঁটছি আর আনমনে ভাবছি , আংকেলের জামাই মশাইরা বিয়ের আগে এসব ফার্নিচার, মওসুমী ফল পিঠা পায়েশ পাঠানোর অগ্রীম দাবি দিয়েছিল কিনা? নাকি আংকেল টাকা আছে বলেই স্বানন্দে মেয়ের সুখের জন্য ট্টাক বোঝাই ফার্নিচার ফল পিঠা পায়েশের বিশাল চালান দিচ্ছেন? তবে এই কথা নিদ্ধিধায় বলতে পারি এই আংকেলদের বড়লোকি ভাবসাব, লোক দেখানো তুঘলকি কাজ কারবার আর অহমিকার যাঁতাকলে বহু অসহায় সুবিধা বঞ্চিত গরিব জরিনাদের সংসারে তাবৎ দুখ নেমে এসে যৌতুক আর সামাজিক অসংগতির আগুনে তাদের কপাল পুড়ে ছাঁই হয়। তারা স্বামী শ্বশুর শ্বাশুড়ির বিশাল যৌতুকের চাহিদাপত্র পুরণ করতে না পেরে নির্যাতনের শিকার হয়ে অকালেই মৃত্যুকোলে ঢলে পড়ে কিংবা জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে সামাজিক অসংগতির নিরব স্বাক্ষী হয়ে না মরেই বেঁচে থাকে।#
লেখকঃ কবি ও প্রবন্ধিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সে যে কেন এলো না!

Share মাঘের আজ ১১ তারিখ। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে সে আসবে সে আসবে কিন্তু তার কোনো খোঁজ নেই। মাসের শুরুতেই কথা ছিল তারা তিনজন আসবে। আমরাও সুবোধ বালকের মতো লেপ, কম্বল, জামা, জ্যাকেট নিয়ে রেডি ওমনি ...

আওয়ামী লীগের জন্য দুঃখ হয়, মায়া লাগে!

Share পীর হাবিবুর রহমান কয়েক দিন আগে উচ্চ আদালত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে। ডাকসুসহ সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন দাবি করে অসংখ্য কলাম লিখেছি। অসংখ্যবার ...