আজ : শনিবার, ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২১শে জুলাই, ২০১৮ ইং, ৭ই জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী, সকাল ১১:৫৪,

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে লবণাক্ত জমিতে বাড়ছে সূর্যমুখীর চাষ!

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার লবণাক্ত জমিতে বেড়ে চলছে সূর্যমুখীর চাষ। স্বল্প খরচে অধিক ফলনে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। এ কারণে লবণসহিষ্ণু এ ভোজ্য ফসল আবাদে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় চাষিদের।

সূর্যমুখীর চাষ বাড়তে থাকায় অনাবাদী জমির পরিমাণ কমার পাশাপাশি সূর্যমুখী তেলের স্থানীয় চাহিদা পূরণ হবে বলে জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়।

উপকূলীয় এ চরে হলুদের আভায় ছেয়ে আছে মাঠের পর মাঠ। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে হলুদের ছড়াছড়ি। এ যেন চোখ জুড়ানো মনোমুগ্ধকর এক অপরূপ সৌন্দর্য। রাস্তার দুপাশের মাঠের দিকে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যায় ভোজ্য ফসল সূর্যমুখীর বাহারি শোভায়।

ফুলের মাঠে মৌমাছি, পাখির আনাগোনাও দেখা গেছে বেশ। কখনো উষ্ণ আবার কখনো নির্মল বাতাসে দোল খাওয়া সূর্যমুখীর হাসিও চোখে পড়বে। জেলার সূবর্ণচর উপজেলায় গত বছরের পর এবারো বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানান চাষিরা।

চাষিরা জানান, স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে দীর্ঘদিন ধরে পতিত থাকা ২১৫ একর জমিতে গত বছরই প্রথম সূর্যমুখীর চাষ করেন তারা।

সুবর্ণচরের কৃষক খাজা মেম্বার জানান, ২০১৫ সাল থেকে ৩৫ একরে এইসূর্যমুখীর চাষ হলেও এবার হয়েছে ৩১৫ একর জমিতে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ফেলে আগামী বছর হাজার একর ছাড়িয়ে যাবে।

স্থানীয় চর আমানুল্লাহর কৃষক কিরণ মিয়া জানান, বাজারে ভেজাল সার জমিতে প্রয়োগের ফলে ফলন কিছুটা কমে গেছে।

নোয়াখালীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ প্রণব ভট্টাচার্য জানান, লবণাক্ত জমিতে অল্প পরিশ্রম ও খরচে ভালো ফলন পাওয়ায় এতে আগ্রহ বেড়েছে স্থানীয়দের। তাই এবার স্থানীয় অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। রবি মৌসুমে চরের পতিত জমিতে সূর্যমুখীর চাষ বাড়াতে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের সরকারি ও বেসরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গতবছর ২১৫ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হলেও এবার হয়েছে ৩১৫ একর জমিতে। আর প্রতিবছর রবি মৌসুমে এ চরের কমপক্ষে ১০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমি অনাবাদী থাকে।

ফোটার অপেক্ষায় সূর্যমুখীর কলি।

সূর্যমুখীর খেতে খেলছে শিশু।

বাড়ছে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা, তাই সম্প্রসারিত হচ্ছে সূর্যমুখীর খেত।

উপকূলের লবণাক্ত জমি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী।

সূর্যমুখীর খেতে শালিকের আনাগোনা।

সূর্যমুখী চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনাবাদি জমির পরিমাণ কমছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

সূর্যের দিকে মুখ তুলে আছে সূর্যমুখী।
সূর্যমুখী ফুল থেকে উন্নত মানের মধুও সংগ্রহ করা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এসএসসিতে পাসের হার ৭৭.৭৭%

Share চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ১০ শিক্ষা বোর্ডে গড়ে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। রবিবার ...

লোটাস কামালের দুর্গে বিএনপির দুই ভূঁইয়ার দ্বন্দ্ব!

Share নাঙ্গলকোট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন, নবগঠিত লালমাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে কুমিল্লা-১০ আসন। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্যতম বড় আসন এটি। আসনের প্রতিটি ...