আজ : শনিবার, ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২১শে জুলাই, ২০১৮ ইং, ৭ই জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী, সকাল ১১:৫৭,

Jpeg

সয়াবিনের রাজধানী লক্ষ্মীপুরে লক্ষ্মমত্রা ছাড়িয়ে সয়াবিন চাষ

এস এম জাকির হোসাইন::

মেঘনার উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর। অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর মাটির কারণে এ অঞ্চলে সয়াবিনের বাম্পার ফলন হয়। দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ সয়াবিন লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত হয়ে থাকে। সে কারকারণে এ জেলা সয়াবিনের রাজধানী হিসেবে খ্যাত। অপর দিকে দিন দিন এই অঞ্চলে বাড়ছে সয়াবিনের আবাদ।লক্ষীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বেলাল হোসেন খান বলেন,এবার সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৫০৫০৪হেক্টর।তার মধ্যেঅর্জন হয়েছে ৪১২৭০ হেক্টর।লক্ষ্য অর্জন না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন , বীজ বিপদের সময় বৃষ্টি হয়েছিল।ফলে দীর্ঘদিন জমি ফলে স্যাঁতসেঁতে ছিল।তাই চাষীরাও অধিকাংশ জমিতে আবাদ করতে পারেনি।  যার ফলেফলে  আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি।গত বছর সয়াবিন আবাদ হয়েছিল ৫৩হাজার ৫৩৮ হেক্টর জমিতে এইবার তা বৃষ্টি কারনে কমে দাড়িয়েছে ৪১ হাজার ২৭০হেক্টর জমিতে।
স্থানীয় কৃষকদের কাছে সয়াবিন শস্যটি ‘সোনা ফসল’ হিসাবে পরিচিত। এখন রবি মৌসুম। এ সময়ে সয়াবিন আবাদ হয়। তাইতো সোনা ফসলে বিস্তির্ণ মাঠজুড়ে আছে । উপকূলের বুক ঝুড়ে মাইলের পর মাইল এখন কছি সবুজ সয়াবিন গাছে বরে গেছে। জেলার রামগতি, কমলনগর, রায়পুর, রামগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় আমন ধান কাটার পরই কৃষকরা সয়াবিন আবাদের প্রস্তুতি নেন। জমিতে রস থাকতে থাকতে চাষ দেন তারা। আইল কেটে নেন, জমির উঁচু-নিচু সমান করেন। আগাচা পরিষ্কার, জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন। জমি শুকালে মই দিয়ে মাটি ঝরঝরে করা হয়। সব প্রস্তুতি শেষে  বীজ রোপন করেন কৃষকরা। ফেব্রুয়ারি প্রথম সপ্তাহে চলতি মৌসুমে সয়াবিনের বীজ বুনা শেষ হয়েছে। কৃষকরা সারিতে এবং ছিটিয়েও সয়াবিনের আবাদ করেছেন। বীজ থেকে চারা উঠতে শুরু হয়েছে। এখন পরিচর্যার পালা, আগাছা মুক্ত রাখা।  পোকা-মাকড় দমনে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়া। স্থানীয় কৃষক তোফায়েল হোসেন, মাহাতাব উদ্দিন ও মফিজ মিয়া জানান, সয়াবিন চাষে রোগ ও পোকার আক্রমণ কম হয়। চাষাবাদ পদ্ধতি সহজ। সয়াবিনে ধানের চেয়ে বেশি দাম পাওয়া যায়। বিক্রি করলে আর্থিকভাবে লাভবান হয় কৃষক। যে কারণে কৃষকদের সয়াবিন চাষে আগ্র বেশি। জমির মালিক মনতাজ উদ্দিন ,  আলী হোসেন ও সাইফ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে চরাঞ্চলে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে
থাকতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে অনাবাদি জমি পড়ে থাকতে দেখা যায় না। পড়ে থাকা ওইসব জমিতেও সয়াবিন চাষে সাফল্য আসছে। জেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বেলাল হোসেন জানান, সয়াবিন বছরের সব সময় চাষ করা যায়। তবে রবি মৌসুমে ফলন বেশি হয়। যে কারণে রবি মৌসুমে সয়াবিনের আবাদ হয়ে থাকে।
৯৫ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। হেক্টর প্রতি ২ থেকে ২.৫ টন উৎপাদন হয়ে থাকে। সয়াবিনের পাতাসহ অন্যান্য অংশ এবং শিকড় অল্প সময়ের মধ্যে পচে-গলে মাটিতে জৈব সার তৈরি করে। এর ফলে মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ অনেক উন্নত হয়। মাটি হয় পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। সয়াবিন চাষের ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পরবর্তী ফসল চাষে সারের ব্যবহার অর্ধেকে কম।  এর মধ্যে রামগতিতে ১৮ হাজার ৬০০ হেক্টর, কমলনগরে ১৮ হাজার ৯০০ হেক্টর, সদরে ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর, রায়পুরে ৭ হাজার ৭০০ হেক্টর ও রামগঞ্জ উপজেলায় ৮৮ হেক্টর । উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ৯৯ হাজার ৬৫৬ মেট্রিক টন। তিনি আরো জানান, সয়াবিন তেল জাতীয় শস্য। গাছ ৩০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার উঁচু হয়। গাছের কান্ডে ফুল হয়। ফুল থেকে শিমের মত চড়াতে বীজ জন্মে, এই বীজগুলোকেই সয়াবিন বলা হয়। সয়াবিন ভোজ্য তেলের প্রধান উৎস। এটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। কচি ও শুকনো সয়াবিন বীজ সবজি ও ডাল হিসেবে খাওয়া হয়। পরিণত সয়াবিন বীজ থেকে শিশুখাদ্য, সয়া দুধ, দই ও
পনির, বিস্কুট ও কেকসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার তৈরি হয়ে থাকে। এছাড়াও পোল্ট্রি ও ফিসফিড তৈরি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এসএসসিতে পাসের হার ৭৭.৭৭%

Share চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ১০ শিক্ষা বোর্ডে গড়ে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। রবিবার ...

লোটাস কামালের দুর্গে বিএনপির দুই ভূঁইয়ার দ্বন্দ্ব!

Share নাঙ্গলকোট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন, নবগঠিত লালমাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে কুমিল্লা-১০ আসন। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্যতম বড় আসন এটি। আসনের প্রতিটি ...