আজ : সোমবার, ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ২রা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী, সকাল ৬:৪৯,

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে অবৈধভাবে কার্যক্রম: শিশুর নিহত

লাকসাম প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে অবৈধভাবে কার্যক্রম করার কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে। গত শুক্রবার মনোহরগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় ৭ মাস বয়সী শিশু ফাইজা আক্তার তাবাস্সুমসহ একাধিক রোগীর মৃত্যু ঘটনা ঘটে গেলেও স্বাস্থ্য প্রশাসন এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণে মনোরমা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ফার্মেসীতে দিন দিন পিতা ও পুত্রের ভূয়া চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা এবং মৃত্যুর মুখে পড়তে হচ্ছে অসহায় দরিদ্র রোগীরা। নিহত শিশু ফাইজা আক্তার তাবাস্সুমের পরিবারকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ১ লাখ টাকার মাধ্যমে সমঝোতা করা হয়েছে।
জানা যায়- মনোহরগঞ্জের লক্ষণপুর বাজারে মনোরমা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের প্যাডে ডাক্তারের নাম বিহীন একটি পেসক্রিপশনের ৮ প্রকারের ওষুধ লিখা থাকলেও ডাক্তারের কোন স্বাক্ষর কিংবা নাম নেই। পরে ওই প্রেসক্রিপশনটি মনোরমা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ফার্মেসীর পরিচালক পলি¬ চিকিৎসক সন্তোষ চন্দ্র শীলের ২ পুত্রসহ ৩ জনেই এমবিবিএস ছাড়াই ডাক্তার লিখে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। তাদের ভিজিট ২’শ থেকে ৫’শ টাকা এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য আলাদা টাকা দিতে হয়। যার কারণে প্রতিনিয়তই রোগীদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এর আগেও লক্ষ্মনপুর গ্রামের কমল চন্দ্র সাহা নামেও এক রোগীসহ একাধিক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গেছে।
রোগীর মা কুলসুম আক্তার জুমি জানায়- শিশু ফাইজা আক্তার তাবাস্সুম বৃহস্পতিবার ঠান্ডা জনিত রোগাক্রান্ত হয়ে লক্ষণপুর বাজারে মনোরমা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। পরে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের পরিচালক পলি¬ চিকিৎসক সন্তোষ চন্দ্র শীলের ছেলে ভুয়া ডাক্তার সঞ্জয় কুমার শীল ওই শিশুটিকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় সঞ্জয় কুমার শীল শিশুর শরীরের জন্য মেয়াদহীন ও ভুল ইনজেকশন পুশ করে এবং আরো ৪টি ইনজেকশন পুশ করার পরামর্শ দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। শুক্রবার সকালে আরেকটি ইনজেকশন দেয়া হয় শিশু তাবাস্সুমকে। এরপর থেকেই অসুস্থতা বাড়তে থাকে তার। শিশুর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন দেখে সন্তোষ চন্দ্র শীল ও তার ছেলে সঞ্জয় কুমার শীল’র সাথে যোগাযোগ করলে বাকী ৩টি ইনজেকশন সরিয়ে ফেলার জন্য এবং পুনরায় শিশুটিকে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে আসার জন্য বলা হয়। পরে শিশুর স্বজনদের সাথে চিকিৎসকের বাক-বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে ক্ষতিকর ইনজেকশনগুলো সরিয়ে ফেলে সঞ্জয় কুমার শীল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য লাকসাম নিয়ে যাওয়ার সময় পথে মারা যায় শিশু ফাইজা আক্তার তাবাস্সুম। এ ঘটনায় শিশুর মা জানায় ভুল চিকিৎসার তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য লাকসাম ও মনোহরগঞ্জের প্রভাবশালী নেতাকর্মী, সাংবাদিকদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহজাহান সরকার বলেন- মনোহরগঞ্জের মনোরমা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ফার্মেসীতে অবৈধ কার্যক্রম ও শিশু নিহতের ঘটনাটি আমি শুনেছি। কিন্তু কেহই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে অবশ্যই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তিনি আরও বলেন- মনোরমা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার কিং বা হাসপাতাল কোন অনুমতি নেই। তারা অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনা সম্পর্কে মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য লক্ষণপুর বাজারে যাচ্ছি। তাই বিষয়টি আমার নলেজে রয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সিভিল সার্জন মজিবুর রহমান জানান-আমরা এ বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অজগর দিয়ে শরীর ম্যাসাজ!

Share চেহারা সুন্দর রাখতে আমরা কত কিছুই না করি! ত্বককে আরাম দিতে মাসে এক বার হলেও স্পা, নানা রকম উপাদেয় দিয়ে স্বাস্থ্যকর ম্যাসাজ করে থাকি। কখনো কি শুনেছেন, একটা অাস্ত অজগর দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করার কথা? ঠিক ...

অনাথ, অসহায়ের শাসনকর্তা হতে চাই: ইমরান

Share ভোটগণনায় ইমরানের ক্ষমতায় আসা প্রায় নিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত ১৩৭-এর ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পারলেও বিলাবল জারদারির পিপিপি-র সঙ্গে জোটের রাস্তাও প্রায় পাকা। ফলে পাক প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন ...