আজ : শুক্রবার, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং, ১৬ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী, রাত ১১:২৯,

নাঙ্গলকোটের কৃতি সন্তান ওরস্যালাইনের আবিষ্কারক গ্রামের বাড়িতে চির নিদ্রায় শায়িত!

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, সোনালী দেশ ডটকম::

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের কৃতি সন্তান ওরস্যালাইনের আবিষ্কারক বিজ্ঞানী রফিকুল ইসলাম গ্রামের বাড়িতে চির নিদ্রায় শায়িত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ সোমবার সকালে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি অনেকদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) তথ্য কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

এই কৃতি ব্যক্তিত্বের জীবনীতে জানা যায়,  কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মালিপাড়া গ্রামে মহৎ প্রাণ খ্যাত মনিষী ডাঃ রুস্তম আলী ও চাঁদভানু বিবির জৌষ্ঠ সন্তান ড. রফিকুল ইসলাম ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিন ভাই ও পাঁচ বোন সহ ব্যক্তি জীবনে তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। মন্তলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু ময়ূরা উচ্চ বিদালয় হতে এস এস সি এবং সিলেট মুরালীচাঁদ কলেজ থেকে এইচ এসসি ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। ১৯৬০ কলেরা রির্সাচ ল্যাবরেটরীতে যোগ দেন।পরে উক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম হয় আর্ন্তজাতিক উদারময় গবেষনা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি)- ২০০০ সালে তিনি চীফ ফিজিসিয়ান হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি আইসিডিডিআরবিতে থাকাকালীন সময়ে বেশ কিছু ওষুধ আবিষ্কার করেন। এর মধ্যে ওরস্যালাইন অন্যতম। এছাড়া তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনের পাশাপাশি আত্মপীড়িত মানুষদের জন্য কাজ করেছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে।

১৯৭১ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর বাংলাদেশি শরণার্থী কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়। সে সময়ে ওই রোগীদের বাঁচাতে ওরস্যালাইনের প্রয়োগ করেন তিনি। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার তার আবিষ্কার ওরস্যালাইনকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডা. রফিকুল ইসলামের ওরস্যালাইনকে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে দেশি এনজিও ব্র্যাক এই ওরস্যালাইনকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়।

ডায়রিয়ার হাত থেকে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ শিশুর জীবন বাঁচানোর কৃতিত্ব দেওয়া হয় খাবার স্যালাইনকে (ওআরএস)। সব ওষুধের দোকানেই স্বল্প মূল্যে খাবার স্যালাইন পাওয়া যায়। তবে হাতের কাছে এটি পাওয়া না গেলেও সবাই জানেন— এক মুঠো চিনি বা গুড় আর তিন আঙুলের এক চিমটি লবণ আধা লিটার বিশুদ্ধ পানিতে মিশিয়ে ডায়রিয়ার প্রাণরক্ষাকারী দ্রবণটি তৈরি করা যায়। জনস্বাস্থ্যে খাবার স্যালাইনের গুরুত্ব বিবেচনায় ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল দ্য ল্যান্সেট এটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার আখ্যা দিয়েছিল। মঙ্গলবার মরহুমের গ্রামের বাড়ী মালিপাড়ায় বিশাল জানাজা শেষে পিতামাতার কবরের পাশে চির শায়িত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নারীর অধিকার; সমধিকারের নামে অগ্রাধিকার নয়! -মোহাম্মদ আলাউদ্দিন

Share – মোহাম্মদ আলাউদ্দিন সম্প্রতি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলা সদরের একটি স্কুলে বার্ষিক ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমণন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগদান করি। ঐ অনুষ্ঠানে স্কুলের নবম শ্রেণির ছেলেমেয়ে তথা নারী-পুরুষ সমধিকারের জন্য গণসচেতনতামূলক একটি অভিনয় ...

অজগর দিয়ে শরীর ম্যাসাজ!

Share চেহারা সুন্দর রাখতে আমরা কত কিছুই না করি! ত্বককে আরাম দিতে মাসে এক বার হলেও স্পা, নানা রকম উপাদেয় দিয়ে স্বাস্থ্যকর ম্যাসাজ করে থাকি। কখনো কি শুনেছেন, একটা অাস্ত অজগর দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করার কথা? ঠিক ...