আজ : বুধবার, ৬ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২০শে মার্চ, ২০১৯ ইং, ১১ই রজব, ১৪৪০ হিজরী, রাত ১:৫৬,

নরসিংদীর পলাতক কাউছার জেএমবির সক্রিয় কর্মী ছিল

এম.লুৎফর রহমান, নরসিংদী প্রতিনিধি :

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. জাফর ইকবালের ওপর জঙ্গি হামলার পরদিনই নরসিংদীর আদালত থেকে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায় নব্য জেএমবির সদস্য কাউসার ওরফে কাশেম ওরফে কাশু ওরফে ফরিদ (২১)। সে জঙ্গিদের অর্থের জোগান দিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও ছিনতাই করত। এ কারণে জাফর ইকবালের ওপর হামলার সঙ্গে জঙ্গি ফরিদের পালানোর কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার আমেনা বেগম (বিপিএম)। জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, পলাতক ফরিদ সিরাগঞ্জের কালিম উদ্দিনের ছেলে। ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নরসিংদী শহরের বাসাইলের একটি বাড়িতে জঙ্গি তৎপরতা ও ডাকাতি করার সময় চার সহযোগীসহ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের সঙ্গে জঙ্গি তৎপরতার সম্পৃক্ততা পান। পরে তাদের অস্ত্র ও ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত হাজিরার জন্য ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে শনিবার নরসিংদী জেলা কারাগারে আনা হয়। সেখান থেকে পুলিশ রবিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে জেলা আদালতের হাজতে নিয়ে আসে। পরে দুপুরে তাকে আদালতের এজলাসে নিয়ে যাওয়ার সময় সে পালিয়ে যায়। পুলিশ সদস্যরা পিছু নিলেও তাকে আর আটক করতে পারেনি। পুলিশের বিভিন্ন সূত্র জানায়, ফরিদ নব্য জেএমবির সক্রিয় কর্মী। সে গ্রেপ্তারকৃত মুফতি হান্নানসহ অন্যান্য জঙ্গিদের মামলা ও সংগঠন পরিচালনায় অর্থের জোগানের জন্য বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও ছিনতাই করত। ঢাকার বড় বড় ডাকাতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এমনকি গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাগারে বসে সে অন্য বন্দিদের নব্য জেএমবির সদস্য হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করত বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার পরদিনই নরসিংদীর আদালত থেকে তার পালানোর ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা বলে মনে করছে পুলিশ। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে ফরিদকে গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যসহ একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তবে সে নরসিংদী ছেড়ে অন্য জেলায় আত্মগোপন করেছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখা এবং মামলায় কোনো আইনজীবী ব্যবহার না করায় সূত্র পেতে বেগ পোহাতে হচ্ছে পুলিশকে। নরসিংদীর পুলিশ সুপার আমেনা বেগম(বিপিএম)বলেন, আদালত থেকে পালানো ফরিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। আদালতে সিসি ক্যামেরা থাকলে তার পালানোর ঘটনা সহজে উদ্ঘাটন করা সম্ভব হতো। আদালত পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. রুহুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে  বলেন,এটা আমাদের ব্যর্থতা। আমরা চেষ্টা করছি তাকে গ্রেপ্তার করার। আমরা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বে অবহেলা ও সার্বিক বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি আরও বলেন, আদালতের নিরাপত্তার জন্য আমরা সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছিলাম। পরে বিচারকদের আপত্তির কারণে তা খুলে ফেলতে বাধ্য হয়েছি। আজকে যদি সিসি ক্যামেরা থাকত, তা হলে সহজেই ঘটনাটি বের করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কোরবানিকৃত পশুর চামড়ার উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ হোক

Share মোহাম্মদ আলাউদ্দিন: দেশের চামড়া শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচা চামড়ার অর্ধেকের বেশি শুধু কোরবানির পশুর চামড়া থেকে সংগৃহীত হয়। আর ব্যবসায়ীরা এ সময়ে কম দামে সম্ভব চামড়া কেনার চেষ্টা করেন। এবারও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ...

নারীর অধিকার; সমধিকারের নামে অগ্রাধিকার নয়! -মোহাম্মদ আলাউদ্দিন

Share – মোহাম্মদ আলাউদ্দিন সম্প্রতি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলা সদরের একটি স্কুলে বার্ষিক ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমণন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগদান করি। ঐ অনুষ্ঠানে স্কুলের নবম শ্রেণির ছেলেমেয়ে তথা নারী-পুরুষ সমধিকারের জন্য গণসচেতনতামূলক একটি অভিনয় ...