আজ : রবিবার, ২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী, বিকাল ৩:১৩,

“মোড়” -মুকুল মজুমদার

দেখে বুঝার কোন উপায় নেই যে মুক্তার মনের ভিতরে কতটা রাগ, ক্ষোভ কষ্ট আর অভিমান জমানো। দূর থেকে দেখলে আট দশটা সাধারণ ঘরের মেয়ের মতই তার আচরণ। হাসলে মুখে মুক্তো ঝরে কাদলে ঝরে শিলা। রাগলে তাকে বিষন মানায়। অভিমানে শিথল। গেল বছর উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেছে মুক্তা।ইউনিভাসিটির সিদ্ধান্তটা এখনো নিতে পারেনি। মামা মামির সংসারে মধ্যমণি সে। অন্য ছেলে মেয়েদের মত মুক্তাকে তেমন ঝড় সহ্য করতে হয় না। মামার সংসারে থাকলে অন্যদের যেমন সইতে হয়। আদর আর ¯েœহে ভরপুর। আমি ওদের সংসারের কেউ না। আশেপাশেও কেউ না। বাহিরে থেকে যতটা অনুভব করতে পারি এই আরকি। মেয়েটা কে আমার অনেক ভালোবাসতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু পারি না। তার অনেক কাছে যেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু সম্ভব না। কয়েক বছর আগে একটা কবিতায় তাকে তুলে ধরেছিলাম। এ হয়তো ধরতে পারেনি। কিন্তু বন্ধু বান্ধবীরা ঠিকই ধরতে পেরেছে।

বাবা যখন মা মেয়েকে ফেলে
অন্য এক নারীর প্রেমে মত্ত
মা তখন আত্ম সুখের লোভে
অন্য এক স্বামীর ঘরে।
তবে!
মেয়েটির এখন কি হবে?

বলছিলাম মুক্তার কথা। মুক্তা সুন্দরের দিকে থেকে যথেষ্ট, এর চেয়ে বেশি সুন্দরের দরকার হয় না। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের কর্থাবার্তায় অনেকটা রাগী স্বভাবের কিন্তু রাগ পড়লে শিমুল তুলার চাইতেও নরম। মেধা তুলনায় যথেষ্ট জ্ঞানী। এইতো দু’বছর আগের কথা। স্কুলের বারান্দায় যখন দাঁড়িয়ে থাকতো তখন যতোটা বুঝতে পারিনি, কিন্তু সময়ের স্রোতে এখন অনেক কিছুই বদলে গেছে। মুক্তা এখন প্রাপ্ত বয়স্ক। নিজের ভালোমন্দ যে বিচার করতে শিখেছে। ইদানীং শুনছি ও নাকি কোন এক ছেলেকে বিষন ভালোবাসে। ওর বাবাকে আমার দেখার সৌভাগ্য হয়নি তবে ওর মাকে অনেক কাছ থেকে দেখেছি। পাশে বসেছি গল্প করেছি। কথা বলেছি মুক্তার নানান বিষয় নিয়ে। মায়ের চোখে স্বপ্ন অনেক মেয়েকে নিয়ে।
মা জুলেখা বেগম এখন অন্য স্বামীর সংসার দেখাশুনা করেন। আছে ভালো সুখেই। তবে এখন মেয়েটাকে নিয়ে তিনি অনেক চিন্তায় আছেন। অন্যের সংসারে থাকলেও মেয়ের প্রতি খোঁজ খবর নিতেন রোজ। আর কতদিন মামির সংসারে পড়ে থাকবে। এবার একটা ভালো পাত্র দেখে মেয়েটাকে পাকা পোক্ত একটা ঠিকানায় পাঠাতে পারলেই হয়। এমন স্বপ্নই বুনছেন হৃদয়ে।
অন্যদিকে মুক্তা যে ছেলেটাকে ভালোবাসে, সে এখনো পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত। নিজের পায়ে দাঁড়ানো বলতে তেমন কিছুই হয়নি। সাধারণ নিয়মে বিয়ের প্রস্তাব নিয় আসার মত যোগ্যতা এখনো অর্জণ করতে পারেনি। এদিকে মুক্তার জন্য প্রতিদিনই একটা না একটা বিয়ের প্রস্তাব তার মামা মামির কান পর্যন্ত আসছেই। মুক্তা আর বিয়ে করবে না বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এখন প্রায় ঘুমাতে গেলে মনের ভিতর আরো একটি ভয় প্রতিনিয়তই তাকে তাড়া করে। মামা মামির সংসারে থাকি। আর কদিনই বা তারা আমাকে চালাবে। মামি যদি হুট করে বলে বসে বিয়ে কর আর না কর তা তোমার বিষয়। আমরা আর চালাতে পারবো না। মামা যদি ডেকে বলে মুক্তা তোমার জন্য একটা যোগ্য পাত্র পেয়েছি, সেখানে তুমি সুখেই থাকবে। আশা করি তুমি এ বিয়েতে দ্বিমত করবে না। তখনই বা আর আমার কি বলার থাকবে। আমি তো আর মামার সুখের উপর বলে বসতে পারবো না যে মামা আমি একজনকে ভালোবাসি। বিয়ে করলে ওকেই করবো। তখন নির্লজ্জ ছাড়া আর কিছুই বলবে না মামা। এমনও হতে পারে মামার ভালোবাসার দরজাটা বন্ধ হয়ে যাবে আজীবনের জন্য। মামির ¯েœহটা হয়ে যাবে তখন সোনার হরিণ। নানাজান বাড়ি ফিরে প্রতিদিনের মত বলবে না, মুক্তা কোথায় গেলি নানা ভাইকে একটু পান সুপারি দেনা, বোন আমার। আমার ভাই বোন নেই। মায়ের আদও ¯েœহ পাইনি। বাবার ভালোবাসা পাইনি। ভাই বোনের আদর ¯েœহতো আকাশের চাঁদ। যতটুকু চাওয়া পাওয়া ঐ আমার মামা মামীকে ঘিরেই। আজ আমি কিভাবে ওদের বাঁধন ছিড়ে যাই? এদিকে রাহুলকেও ছাড়তে পারবো না। পারলে অনেক আগেই তা করতাম। যখন ভুল করেছি তখন ভুলটা চোখে ধরা পড়েনি। এখন যখন বুঝতে পারলাম এ পথে পা বাড়ানোটাই চরম ভুল ছিল আমার জীবনের জন্য। এখন পা’টা ফিরিয়ে নেওয়ার মতো কোন রাস্তা আমর খোলা নেই। আজ জীবনের চৌরাস্তার মোড়টা বড় ঘোলাটে। আমি দাঁড়িয়ে আছি স্বপ্নের ঘরে ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্তর। শাপলা ফুলটার পাশে। কোন দিকের রাস্তা পরিষ্কার না। নিজের রাস্তাটা সহজ মৃত্যু। পাশেই বিআর টিসি বাসটি র্হণ বাজালো। মুক্তা বাস চাপায় পড়ে চিৎকার করে ওঠলো। ঘুম ভেঙ্গে গেলো। মামি পাশের ঘর থেকে দৌঁড়ে এলেন। মুক্তার গায়ে হাত দিয়ে বললেন-
– কি মুক্তা কি হয়েছে?
– না, মামানি কিছু হয়নি।
– আমি ঠিক আছি।
– তা হলে এত জোরে চিৎকার করলি কেন?
– আমি তো তোর চিৎকার শুনেই এ ঘরে এলাম।
– ও তাই বুঝি?
– কি জানি কি একটা স্বপ্ন দেখলাম।
– খুবই খারাপ স্বপ্ন?
-হুম (বলেই কাদতে শুরু করলো মুক্তা, মামিকে জড়িয়ে ধরে বললো)
– মামি আমি যদি মরে যাই তোমার কেমন লাগবে?
-না মা, এমন অলক্ষনে কথা বলিস না তো । এসব বলতে নাই।
– যদি হারিয়ে যাই।
– তুই ঘুমা এখন। কি স্বপ্ন দেখেছিস কাল শুনবো। এখন এমন আজে বাজে কথা বলা বন্ধ কর।

এতক্ষন যা দেখেছিল মুক্তা স্বপ্নের ঘরে। এখন সে বাস্তবে এসে মুখ মুখী। সে ভাবছে- মুরব্বীদের মুখে শুনেছি গভীর রাতের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়। এখন অনেক গভীর রাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অজগর দিয়ে শরীর ম্যাসাজ!

Share চেহারা সুন্দর রাখতে আমরা কত কিছুই না করি! ত্বককে আরাম দিতে মাসে এক বার হলেও স্পা, নানা রকম উপাদেয় দিয়ে স্বাস্থ্যকর ম্যাসাজ করে থাকি। কখনো কি শুনেছেন, একটা অাস্ত অজগর দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করার কথা? ঠিক ...

অনাথ, অসহায়ের শাসনকর্তা হতে চাই: ইমরান

Share ভোটগণনায় ইমরানের ক্ষমতায় আসা প্রায় নিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত ১৩৭-এর ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পারলেও বিলাবল জারদারির পিপিপি-র সঙ্গে জোটের রাস্তাও প্রায় পাকা। ফলে পাক প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন ...