আজ : বৃহস্পতিবার, ৩রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং, ৭ই সফর, ১৪৪০ হিজরী, ভোর ৫:২১,

সাত কাহন- তাছলিমা শাহনুর

নাট্যমঞ্চ থেকে পথচলা শুরু।”এই সেই স্বাধীনতা” নাটকের মূল চরিত্রে দু’জনের ভূমিকা ই ছিলো প্রধান। সংলাপ শুধু সংলাপ ব্যাস্ এটুকুই। শহুরে আধুনিকতা মিশিয়ে গলায় টাই ঝুলিয়ে শব্দশালী হুন্ডায় এসে হাজির হতে মহড়া কক্ষে। দূর থেকে দেখতাম তোমাকে।

ভালো লাগতো ; পরিপাটি জীবনের ধ্যান কর্মে আধুনিকতা আমাকে আকৃষ্ট করেছিলো সেদিন।সময় বয়ে যায়। মঞ্চ সাজে অডিয়েন্স কাঁপানো সংলাপ ছোড়া হবে কিছুক্ষনের মধ্যে। সাঝ ঘরে আমরা। কে জানতো সে দিনের সাঝ ঘরের আলো রঙ আমার ভুবনে মুক্তির মিছিলে পথ চিনেছিলো।

সাঝঘর থেকে ভাতঘর পর্যন্ত ;ধীরেধীরে পারিবারিক মমতায় তোমার ইচ্ছা, চেষ্টা ব্যর্থ হতে দাওনি। শিল্পের দোহাই দিয়ে দিয়ে প্রায় প্রতিদিন ই বাড়িতে যাতায়াত করেছো।অমূলক জাদুগরের মতো আমার দৃষ্টির মহড়ায় তুমি আগুন ছড়িয়ে ফানুস উড়িয়েছো।রাজ পথ তোমার দখলে ছিলো বলে যখন তখন ব্যক্তিগত নামের তালিকাভুক্ত করে আমার সাথে দেখা করাটা তোমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিলো।

যৌবনা বসন্তে সময় অসময় কুকিলের আনাগোনা আমার চোখে আগুন ধরিয়ে দিলে।
প্রশ্নবিদ্ধ আমি রোজকার মতো তোপের মুখে বেঁচে ফিরি। এ সমাজ কলঙ্কবোধ লেপটে দেয় নারীর সর্বাংগে । তাই তুমিও পুরুষের দলে বলে উপলব্ধি করোনি- সামাজিকতা।
“হে সমাজ তুমি শুধু এলে পুরুষের জন্য, নারীর জন্য নয়।
হে সমাজ তুমি শুধু এলে পক্ষলয়ে- এলে বুঝি বয়,অতঃপর নারীর জন্য নয় ”
(লাইন দুটি অতঃপর নারী ওপুরুষ কবিতার অংশ।)
মার্চ ২০০১ আমার সীমারেখায় লং মার্চ জুড়ে দিলাম। সুবোধ যুবকের অবিরাম দৃষ্টি আমার আমিতে বিস্ফোরিত হলো।
বিস্ময়ে আমার মুখ থেকে সেদিন বেরিয়ে এসেছিলো অকথিত শব্দমালা।সময় অসময় বলে কিছু থাকে – সুখ দুঃখ মিশ্রিত এর স্বাদ অনেকটা ঝাঁঝালো।
একটা কিশোরীর সরল চাওয়া পাওয়া বুনো ফুলে জড়ানো ময়ূরের পিঠের মতো রঙ ছিলো তার কুঞ্জিতে।আজ সে রঙ বেনামী কবিতার খাতায় পড়ে থাকা একটা কাঠামো মাত্র।
হাটুরে নাটকের কথা, কবিতা শোনা, সাজানো তোমার নালিতার প্রজ্ঞাপন। আহ্!!
অথচ আমার শৈশব হাতে গোনা কিশোরীর অবিচল হেসে খেলে বেড়ে উঠা। পুকুর জলে ডুবাডুবি, গাছের মগডালে বকের ছানা, পাতিহাঁসের সাথে গলা ডুবিয়ে শামুক কুড়ানো- পাতাগন্ধা কুয়ার কালো জলে মাছের সাথে খেলা। ধান, গম, কলাই,,,, কতো মায়াবী মোহে কেটেছে।
দীর্ঘ একটি বছর দেখা মিলে। তোমার বাউণ্ডুলে জীবন, জোরালো শব্দের হোন্ডা, পছন্দের রঙিন জামা, শহুরে নিয়মে ভালোবাসা, আমি সে দিন তোমার রেবন চশমার ফাঁকে আসল দৃষ্টি বুঝে নিতে ব্যর্থ হয়েছিলাম।
আর ব্যর্থ হয়েছিলাম বলেই লক্ষ্যহীন দাতব্য নগ্নতার হাতে, একটা কক্ষচূযত বুনেদির সাথে নিজেকে অনাড়ম্বর দাবানলের উদগিরনে নিক্ষেপ করতে কুন্থিত ছিলাম না।
সেদিন বুঝতে পারিনি বলে- আজ আমার বেলা অবেলার দিন ক্ষন ফুরোয় না সহজে।
মানিয়ে নিতে গিয়ে বহুবিধ গভীরতার কারন আমি খুঁজে না পেয়ে গোসলের ভানে অশ্রু করি নিত্যকারে। তোমার প্রয়োজনের ঘুড়ির নাটাই হয়ে বাজতে থাকি টিনের কৌটার মতো ঝনঝন করে- ঠিক যেমন টি তুমি চাও,,,।
আমি সকালের চোখে কতোকি লুকোই । শঙ্কা, সন্দেহ, ক্ষোভের অভিব্যক্তি, ছাপার হরফে চিত্র বিচিত্র। রোজকার আমোদে দ্বায় দায়িত্ব গানিতিক হারে চেপে আসে যেন অভিনিবেশ এবং যত্ন আমার ই উপর বর্তায়।
আমার কি চাওয়া সম্পর্ক টিকে থাকার রচনাবলী বেশি কিছু ছিলো কি?
নিজেকে নিয়ে ভাবলে হয়তো অন্য রকম হতে পারতো জীবন।
গভীর যন্ত্রনায় দ্রোহ, প্রতিটি প্রতিবাদ সম্মানবোধের অভিমুখে স্বতঃস্ফুর্ত নুইয়ে রেখেছি।
প্রাণবন্ত জীবন যৌবন আসল আর নকলের ভীড়ে কোনটি যে কি-! তবু অভিনয় চালিয়ে যাই শান্তির কথা ভেবে।
অহেতুক ভেবেভেবে সময় আর চিন্তার ক্ষয়, চাপা নালিশ সবসময় পুষে আসছি,,, জানি এর কোন মূল্য নেই।আলাপ, প্রলাপ, বিলাপ কিছুই নেই। উল্টো রথে বাহন চলছে জেনেও মাঝে মাঝে নেমে বুঝে নেয়ার প্রস্তুতি চালাই সিকি শতাব্দীর ব্যবধান।
জানি এর ফলাফল ও হবে শূন্য। আর তুমি-ই বলেছিলে একদিন – শূন্য ই গোল আর গোলই শূন্য,,,। কি নির্বোধ -ই না আমি।
সংসারের সংজ্ঞা কি? তা বহুবিদ মানুষের কাছে বহুবিদ হবে এটাই স্বাভাবিক;তাই নয় কি?
সুখের মণ্ড ভেংগে একাকার কখনো, ঝরনার পায়ে নূপুর, কবিতার শরীরে হাহাকার লেগে থাকে অস্থির শব্দেরা। প্রতিবাদ কণ্ঠস্বর এখনো অধিকতর দ্বিধা এবং সঙকায় ভোগে। সামাজিক অবস্থানগত টাইম লাইনে দাঁড়িয়ে প্রত্যাশা সমূহ উচ্চারণ করতে পারছেনা অনেকেই। সাজানো মঞ্চে সত্যের বাক গাঢ় প্রত্যয়দীপ্তি বিকিরিত হয় না। সেই নারী যারা প্রতিশ্রুতির বদলে সচ্ছ চিন্তার অবকাশ ভাবতে পারিনা। ভাবনার বদলে ভানেই কেটে যায় হুকুম তামিল।
সাংসারিক নিয়ম মেনে চলা পরিক্রমায় সমাজের আদি অন্তের আলোহীন খোলসে স্যাঁতস্যাঁতে দেয়ালের ছত্রাকে পরিণত করা এসব নিয়ম শৃঙ্খল আদৌ গোছায়নি প্রতিষেধক নিয়মে-
কারণ নিয়ম তোমারই হাতে, তুমি ভাঙগ গড়ো নিয়মের ডালা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কুমিল্লাকে দ্রুততম সময়ে বিভাগ করার জোর দাবি

Share রিকু আমির : নামকরণ যা-ই হোক, কুমিল্লাকে দ্রুততম সময়ে বিভাগ করার জোর দাবি উঠেছে বৃহত্তর কুমিল্লা (কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-চাঁদপুর) সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত একটি সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান থেকে। গত রোববার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের প্রয়াত ...

খুলনায় নির্ভার আ.লীগ, শঙ্কায় বিএনপি!

Share খুলনা সিটি নির্বাচন কাল ২৩৪ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ভোট ডাকাতি ও নাশকতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপির দেড় শ নেতা কর্মী গ্রেপ্তার বলে দাবি নগরীতে নেমেছে ১৬ প্লাটুন বিজিবি প্রচারণা শেষ। রাত পোহালেই ভোট। খুলনা সিটি নির্বাচনে ...