আজ : শুক্রবার, ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, ৯ই সফর, ১৪৪০ হিজরী, রাত ৮:০৭,

একদিন একুশে বইমেলায়- আজিম উল্যাহ হানিফ

অমর একুশে বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। এই অমর একুশে বইমেলায় কয়েকজন মিলে গ্রুপ বেঁধে যাওয়ার শখ বহুদিনের। তাইতো প্লান অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাঙ্গলকোট তানিয়া হোটেলে অপেক্ষা করি, তাজুল ইসলাম স্যারের জন্য। ৭ টা ৩০ মিনিটে নাঙ্গলকোট বাজার সিএনজি ষ্টেশন আসেন কবি মো: তাজুল ইসলাম স্যার। স্যারসহ লাকসামের সিএনজিতে চেপে বসলাম। লাকসাম বাইপাসে তিশা বাস কাউন্টারে গিয়ে আগের থেকে অপেক্ষারত শিক্ষক ও সাহিত্যিক ফারুক শাহরিয়া এবং মুকুল মজুমদারের সাথে একত্রিত হলাম। ৪জন একসাথে টিকিট কেটে তিশা বাসের ২১ থেকে ২৪ নং সিটে আমরা ৪ জন বসলাম। যদিও আমাদের সঙ্গী আরো বেশি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানান প্রতিকূলতা ও নানান প্রতিবন্ধকতার কারণে শেষ পর্যন্ত আমরা ৪জনই হয়েছি। বরাবর ৮টা ৫ মিনিটে বাস ছাড়লো আমাদের। বইমেলায় গিয়ে- কে কি করবো, কি করতে হবে, ৪জনের মধ্যে কথা ভাগাভাগি ও শেয়ার করে নিলাম। মেলার শেষ দিন হওয়ায় আমাদের মাঝে আনন্দ ও অস্থিরতা দুটোই কাজ করছিল। যেহেতু আমরা চলতি বছরের বাকি ২৭দিন যাইনি। আর পরদিন যেহেতু মার্চ মাসের এক তারিখ। তাই শেষ দিন হওয়ার অনুভূতি ও অন্যরকম লাগছিল আমাদের কাছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ঢাকা শহরের সাথে দূরত্ব যে, হাতে গোনা কয়েকটি জেলার কম, তার একটি হলো কুমিল্লা। এটি ঢাকা-চট্টগ্রামের মাঝামাঝি হওয়ায় দূরত্ব কম। তাইতো লাকসাম থেকে বাসে উঠে পদুয়ার বাজার বিশ^রোড পেরোলেই মনে হয় যেন ঢাকার কাছাকাছি চলে আসলাম, এমনিতেই ঢাকা যাওয়া হয়, কিন্তু বইমেলা বলে কথা। তাইতো অন্যরকম এক ফ্রিলিংস বা উত্তেজনা কাজ করছিল। আড়াই ঘন্টার যাতায়াত ব্যবস্থা বর্তমান পরিবেশ ও চারলেন ব্যবস্থার কাছে যদিও কিছু না, কিন্তু দিন দিন যে হারে জ্যাম বাড়ছে, সাথে যানবাহনও। কিন্তু আমরা আড়াই ঘন্টার আশা করতে পারি না। সেখানে আরো দেড় ঘন্টা বাড়িয়ে ধরলেও হয় না, আজকাল কেন জানি মিলে না। যাক প্রচন্ড জ্যামে একসময় যাত্রাবাড়ি এসে পৌঁছল তিশা বাস। তখন বেলা দেড়টার মত। আমরা নেমে স্থানীয় একটি হোটেলে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম,পাশ^বর্তী একটি দোকানে গিয়ে রং চা খেলাম। সেখান থেকে একটি লোকাল বাসে করে কাটাঁবন এলাকায় গিয়ে ফ্রেশ হলাম চারজনই। এই ফাঁকে বাংলাদেশ কবি সভার অফিস ও বাবুই প্রকাশনীসহ বেশ কয়েকটি অফিস ঘুরে আসলাম আমরা। বাকসের অফিস সংলগ্ন টি স্টলে গিয়ে রং চা খেলাম। সেখান থেকে বেলা সাড়ে ৪ টায় রিক্সাযোগে টিএসসি চত্ত্বর আসলাম। টিএসসি চত্বর থেকে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলাম। যদিও আমরা প্রথমে সিরিয়ালে তো অবশ্যই প্রবেশ করতে হয়। তবে আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথমে কয়েকটি রাস্তা ও স্টলে হেঁটে দেখা শেষে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলাম। ঘন্টা দুয়েক ধরে প্রায় ৬ শত স্টলের মধ্যে প্রায় ৫০টি স্টল ঘুরে দেখা হলো আমাদের। এত মানুষ, এত ভিড় না দেখলে বুঝার উপায় নেই যে, প্রাণের মেলায় মানুষ কিভাবে আসে। এই মেলাতে ঘটে সকল লেখক-কবি-সাহিত্যিক-পাঠক-প্রকাশকদের মিলনমেলায়। তবে আমাদের সাথে অন্যরকম মজা ও আনন্দ লেগেছিল, বেশি এই কারণেই যে- ফেসবুকের বন্ধুদের সাথে দেখা হয়েছিল আমাদের মেলায় তাদের মধ্যে অন্যতম হলো কবি মাহমুদা শিরিন, ফাতেমা খাতুন রুনা (যদিও ওনার সাথে কুমিল্লা নজরুল ইন্সটিটিউটে পরিচয় হয়েছিল আমার), ফেরারী মো: মুরাদ, দেশবরেণ্য লেখক আনিসুল হক, কবি অসীম সাহা, কবি মাকিদ হায়দার, সোলায়মান শিপন, নাহিদা আশরাফী, নাছিব মাহদী ছাড়াও অসংখ্য তরুন কবি-লেখিকাদের সাথে। এছাড়াও দেখা হয়েছে পূর্ব পরিচিত মোরশেদ আলম হৃদয়, আবিদ আল আহসান, ইব্রাহিম খলিল, মাইনুল ইসলাম মানিক, আশিক বিন রহিম, কাকলী চৌধুরী, এম এস দোহা, আবুল কাশেম হৃদয়, নির্মলেন্দু গুন, শহিদুল্লাহ ফরায়েজী, প্রফেসর ড. এমাজ উদ্দিন, এবিএম সোহেল রশিদ, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন।
সন্ধ্যা ৭টার পরও অনেকক্ষণ সময় পর্যন্ত আমরা মেলা প্রকাশনীর ৫৫৫ নং স্টলে ছিলাম। সেখান থেকে আমরা ৪জন আমি, মো: তাজুল ইসলাম স্যার, ফারুক শাহরিয়া স্যার, মুকুল মজুমদার বেরিয়ে (বিদায় নিয়ে) বাবুই প্রকাশনীর স্টলে গেলাম। সেখানে বেশ ঘন্টা খানেক ধরে আড্ডা দিয়ে মেলা থেকে বের হলাম। তখন রাত প্রায় সাড়ে আটটার কাছাকাছি। উদ্যানের গেইট পেরিয়ে বাইরে ফুটপাতে কিছুক্ষণ হেঁেট এরপর আসলাম বাইরের খোলামেলা চা দোকানে। সেখানে এসে চা খেলাম আমরা। যদিও চা খাওয়ার আগে ফারুক শাহরিয়া কোনটা বুঝে বললো চা খাবেন না, আমি ও স্যারের সাথে তাল মিলিয়ে বললাম আমিও খাবনা। কিন্তু ততক্ষণে চা দোকানদার মেয়েটি চা বানিয়ে ফেললেন। যাক চা খেলাম, চা খেয়ে আমরা কিছুক্ষণ হাঁটলাম। তারপর রিক্সাযোগে আজিজ সুপার মাকের্টের কাছাকাছি এসে রাতের নাস্তা সারলাম। নাস্তা শেষ করে সিএনজি ভাড়া করে ৪জনে চেপে বসে যাত্রাবাড়ি বাস কাউন্টারে আসলাম। সেখান থেকে তিশা বাসে করে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ^রোড এসে নামলাম আমরা ৩জন (তাজুল ইসলাম স্যার, ফারুক শাহরিয়া স্যার ও আমি), মুকুল মজুমদার কিছুক্ষণ আগেই কান্দিরপাড় নেমে গেছে। তখন রাত প্রায় ১টার কাছাকাছি। আমরা ৩জন একসাথে ওভারব্রীজ পেরিয়ে সিএনজি যোগে লাকসাম বাইপাস এসে, ফারুক শাহরিয়া স্যারকে বিদায় দিই। থাকি আমি ও তাজুল ইসলাম স্যার। স্যারসহ সিএনজি যোগে রওনা হই নাঙ্গলকোটের উদ্দেশ্যে। সেখানে তাজুল ইসলাম স্যারকে ময়ূরার একটি সিএনজিতে উঠিয়ে আমি রুমে ফিরি। ১৯ ঘন্টার জার্নিং তথা অন্যরকম একটি ভালোলাগার মূহূর্ত আমার জীবনের সাথে চির অম্লান হয়ে রইবে। কেননা পেশাগত ৪জন ৪ মনার হলেও সাহিত্য জগতে ৪জন হওয়ায় ঘুরতে পেরেছি নিজেদেরই মত করে। নয়তো কি সম্ভব হতো নাকি…..
আজিম উল্যাহ হানিফ: লেখক: তরুন কবি ও সাংবাদিক, মোবাইল: ০১৮৩৪-৩৮৯৮৭১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কুমিল্লাকে দ্রুততম সময়ে বিভাগ করার জোর দাবি

Share রিকু আমির : নামকরণ যা-ই হোক, কুমিল্লাকে দ্রুততম সময়ে বিভাগ করার জোর দাবি উঠেছে বৃহত্তর কুমিল্লা (কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-চাঁদপুর) সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত একটি সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান থেকে। গত রোববার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের প্রয়াত ...

খুলনায় নির্ভার আ.লীগ, শঙ্কায় বিএনপি!

Share খুলনা সিটি নির্বাচন কাল ২৩৪ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ভোট ডাকাতি ও নাশকতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপির দেড় শ নেতা কর্মী গ্রেপ্তার বলে দাবি নগরীতে নেমেছে ১৬ প্লাটুন বিজিবি প্রচারণা শেষ। রাত পোহালেই ভোট। খুলনা সিটি নির্বাচনে ...