আজ : মঙ্গলবার, ২রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জুলাই, ২০১৮ ইং, ৩রা জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী, দুপুর ১:৪০,

জেনারেলের কালো সুন্দরী ও বিএনপি ঘিরে ভোট রাজনীতি!

পীর হাবিবুর রহমান

ফেব্রুয়ারি মাসটা হাসপাতাল আর ঘরের বিশ্রামেই কেটে গেল। এমনিতেই বসন্ত আমাকে মনে রঙ দেয় না। কোকিলের অবিরাম ডাক মন উদাস করে রাখে। বিষাদ গাঁথা  আচ্ছন্ন করে দেয়। শরীর-মন অবসন্ন থাকে। প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়ে ফেলি। বর্ষা হলো আমার যৌবনের কাল। বর্ষা আমাকে রোমান্টিকতাই দেয় না, তারুণ্যের উন্মাদনাও ফিরিয়ে দেয়। জল-জোছনা ও বৃষ্টি আমি মন-প্রাণ দিয়ে উপভোগ করি।

ফেব্রুয়ারি মাস আসার আগেই একুশের বই মেলা সামনে  রেখে ভক্ত ও পাঠকদের সঙ্গে দুয়েকজন বন্ধু প্রকাশক তাগিদ দেন লেখালেখির। বিশেষ করে লেখা আদায় করে নিতে অন্য প্রকাশের বন্ধু মাজহারুল ইসলামের জুড়ি নেই। গেল বছর বইমেলায় কোনো পান্ডুলিপি দিতে পারিনি। নিউজ পোর্টাল চালানোর চাপ, নিয়মিত কলাম লেখা আর টুকটাক পড়াশোনা, বাকিটা আড্ডাবাজি আর এই মৃতনগরীর যানজটে চলে যায়।

এবারও একুশের বই মেলায় কোনো বই প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল না। অনুজপ্রতীম রঞ্জু রাইম ও মেহেদী হাসানের সহযোগিতায় বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত রাজনৈতিক কলামগুলো নিয়ে জিনিয়াস পাবলিকেশন ‘খবরের বারান্দা’ বইটি প্রকাশ করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সেনাশাসন বিরোধী উত্তাল ছাত্র আন্দোলনের প্রিয় মুখ এ বি এম জাকিরুল হক টিটন বন্ধুই নয়, একজন সাদা মনের মানুষ হিসেবে আবার খুব কাছের। আড্ডার আসরে জাসদের টিটনের জুড়ি নেই। টিটনের চাপে শেষ পর্যন্ত লিখতে বসা। অগাছলো  মানুষ আমি। শেষ মুহূর্তে ব্যাগ গোছানো যাত্রীর স্বভাব আমার যেন দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে লাফ দিয়ে ট্রেনে ওঠা মানুষ। টিটনের চাপে আর মাজহারুল ইসলামের তাগিদে শেষ পর্যন্ত লিখে ফেললাম, “জেনারেলের কালো সুন্দরী” উপন্যাস।

বাঙালি জাতির মহত্তম নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৌকার পক্ষে সত্তরের নির্বাচনে গণরায় তার দীর্ঘ সংগ্রামের স্বাধিকার-স্বাধীনতার পথ ধরে সুমহান মুক্তিযুদ্ধের পথ ধরে বাংলাদেশের অভূধ্যয় এবং পাকিস্তানের কারগার থেকে ফিরে আসার সময়টিকে ঘিরে মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর এই উপন্যাস। একাত্তরের গণহত্যার নায়ক জেনারেল ইয়াহিয়া বেলুচিস্তানের কসাই টিক্কা খানকে দিয়ে বাংলাদেশে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছিলেন। রাও ফরমান আলীর মতো নিষ্ঠুর জেনারেলরা আল-বদর দিয়ে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল।

অন্যদিকে একাত্তরের রাজনীতির খলনায়ক জুলফিকার আলী ভূট্টো ডুবেছিলেন শরাবে আর নারীতে। জেনারেল ইয়াহিয়া খান ইসলামাবাদে রাষ্ট্রপতির ভবনকে বানিয়েছিলেন বেশ্যালয়। রোজ রাতে কালো সুন্দরী থেকে জেনারেল রাণী, তানিয়া, নূরজাহানদের নিয়ে দুই বোতল হুসকিতে যৌনদানবে পরিণত হতেন এই জল্লাদ। আর পাকহানাদার বাহিনীর নৃশংসতার আর্তনাধে বাংলাদেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠতো। সেই সব ঘটনাবলী এই উপন্যাসের পাতায় পাতায় উঠে এসেছে। অন্য প্রকাশ বইটি দ্রুত প্রকাশ করলেও লেখক হিসেবে মনে হয়েছে, নিজের প্রতিই নয়, পাঠকদের প্রতি অবিচার করেছি। অন্তত আরো চার থেকে পাঁচদিন সময় ব্যয় করলে বইটি পাঠকদের জন্য সুখপাঠ্য হতো। তবুও আশা করছি পাঠকরা ঠকবেন না।

আমাদের তারুণ্যে প্রতি বছর বইমেলায় প্রায় রোজ যাওয়া হতো। ৯৩ সাল পর্যন্ত বই মেলায় নিয়মিত গেছি। তারপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০০৫ সালে মেলায় যাওয়া। কিন্তু সেই প্রাণ আর ফিরে পাইনি। তবু প্রাণের বইমেলা খুব টানে। বইমেলার আড্ডা নষ্টালজিক করে তোলে। সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ মনে আনন্দ দেয়। তিন বছর আগে মেলায় যাওয়ার কথা ছিল অনেকের সঙ্গে। কেউ কেউ কথা রাখলেও কেউ কেউ কথা রাখেনি। নির্দয়-স্বার্থপর হৃদয় তাদের যখন যা ভালো লাগে তাই করে। নিজের ষোলআনা সুখ-আনন্দ ও হিসেব পাই পাই বুঝে নিতে শিখে। হিসেবের খাতা আমারই কেবল শূন্য থেকেছে। ওরা বইমেলায় একা একা গেলেও আমার আর যাওয়া হয়নি। মতিহারের বন্ধুরা আমার অনুজ ভক্তরা দল বেধে গেছে। আমাকে ডেকেছে। তবু যাওয়া হয়নি। হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে মনকে ফেলে রেখেছি একুশের বইমেলায়।

দু’দিন আগে হাসপাতাল ছাড়ার সময় ডাক্তার বলেছেন, পনের দিনের বেড রেস্ট। হাসপাতালকে জেলখানা আর বাড়িতে বিশ্রাম মানে গৃহবন্দী মনে হয় নিজেকে। এই স্বভাবের মানুষ কখনো আমি ছিলাম না। সবাইকে ডেকেও বই মেলায় যেতে পারিনি। এই লেখা যখন লিখছি, তখন মেলার আয়ুমাত্র আর দু’দিন। শেষ দিন মেলা ভাঙনের করুণ সুর ভাসে। ইতিমধ্যে বৃষ্টি ও শিলা পাথরের দাফট শুরু হয়েছে। তবুও শেষ হওয়ার আগের দিন মেলায় যাব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অনেক ভক্তরা জেনারেলের কালো সুন্দনী নিয়ে ফেসবুকের ইনবক্সে মন্তব্য দিচ্ছেন, ছবি দিচ্ছেন।

কিন্তু দেশের রাজনীতি ও শারীরিক দকল মিলিয়ে কোনো কিছুতেই সুখ পাচ্ছি না। এ বছর নির্বাচনের বছর। কথা ছিল, সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের তিন বছর আগে রিপোর্ট করেছিলাম, ‘বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন উৎসব’। আর এই জাতীয় নির্বাচনের দু’বছর আগে রিপোর্ট করেছিলাম, ‘খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচন উৎসব’। সরকার ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি মামলা, রাজনীতির অন্দরমহলের হিসেব-নিকেশ, তথ্য-উপাত্তের ছড়াছড়ি। নানামুখী আলোচনা মিলিয়েই ছিল এমন পূর্বাভাস। সেই রাজনীতির আবহাওয়ার আগেরটি সত্যে পরিণত হয়েছিল।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন ও প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিল বিএনপি জোট। সহিংস হরতাল ও অবরোধের কর্মসূচিতে প্রাণহানির ঘটনাই ঘটেনি। অর্থনেতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। মাঝখানে বিএনপি নির্বাচন প্রতিরোধ করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ জোট আসন ভাগাভাগি করে ১৫৩টি আসনে বিনাভোটে প্রার্থীদের জয়ী করে যে সংসদ গঠন করেছিল, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হলেও পরবর্তীতে এতটাই হজম করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তা গ্রহণযোগ্যও করে তোলে। গণআন্দোলন বা গণঅভূত্থানে সেদিন সরকারকে বিদায় করা দুরে থাক অসহযোগ আন্দোলনের নামে বেগম খালেদা জিয়ার হরতাল-অবরোধের ডাক পেট্রলবোমার রাজনীতিতে বুমেরাং হয়ে দেখা দেয়। আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা দুরে থাক, গণঅসন্তোষ তৈরি হয়। বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী মামলার জালে আটকা পড়ে দলের সাংগঠনিক শক্তির ক্ষয়ই ঘটেনি, রীতিমত দলটির কোমর ভেঙে যায়।

পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি তুলে আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিকে পথ হাঁটে। রাজপথের লড়াই ছেড়ে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি ভোট লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকে। ততক্ষণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জনপ্রিয় দল হওয়া সত্ত্বেও বিএনপির দুঃসময় কেটে যাওয়া দুরে থাক, শনির রাহু যেন আগ্রাসী হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মাসেতু দৃশ্যমান হওয়াসহ ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দেশ ভাসলেও সরকারি দলের একদল নেতাকর্মীর উন্মাষিক আচরণ, দলের মাঠ পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, ব্যাংকিং খাতে লুণ্ঠনসহ নানামুখী দুর্নীতি শাসক দলের জনপ্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয়। কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও তার জোট আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় আওয়ামী লীগের সুসময়ের বসন্ত বাতাস বইতে থাকে।

দুর্নীতি মামলায় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ হওয়ার পর বিএনপির পক্ষে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলতে না পারা তাদের ষোলকলা পূর্ণ করে বৃহস্পতি তুঙ্গে ওঠে শাসক দলের। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে নির্বাসিতই নন, আদালতের চোখে একজন দণ্ডিত ফেরারী আসামি। এমনি পরিস্থিতিতে একটি জনপ্রিয় রাজননৈতিক দল হিসেবে সরকার বিরোধী শক্তিশালী ফ্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপি কার্যত নেতৃত্বহীন। সরকারি দমন-পীড়নের আশঙ্কায় দলটি হঠকারী পথ ছেড়ে অহিংস কর্মসূচির পথে জনমত সংগঠিত ও মানুষের সহানুভূতি আদায়ের পথ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন অনিশ্চিত। এক মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে নিঃসঙ্গ কারাজীবনেই তাকে থাকতে হতে পারে। প্রশ্ন উঠেছে এমনি অবস্থায় বিএনপি কি করবে? আগামী ভোট রাজনীতি সামনে রেখে দেশের রাজনীতি কোন পথে হাঁটবে?

প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি দল যখন নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে ময়দানে বিএনপি তখন কালো পতাকা নিয়ে পুলিশের লাল পানির যন্ত্রণা সয়ে দলীয় কার্যালের তিন তলায় ওঠে কালো পতাকা নাড়ছে। অনেকে  মনে করেন, এই অবস্থা চললে আর বিএনপি অহিংস কর্মসূচি নিয়ে এভবে পথ হাঁটতে থাকলে জন সমর্থন তাদের দিকে ঝুকবে। কিন্তু পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, সরকার এমন সুযোগ বিএনপিকে দেয়ার জন্য বসে নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ঘরে বা অফিসে বসে আন্দোলন করতে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, ওবায়দুল কাদেরকে তিনি রাজনীতির শিক্ষা দিতে পারেননি। শিক্ষক হিসেবে ছাত্রের প্রতি স্নেহসুলভ দৃষ্টি নিয়ে কথাটি বললেও ওবায়দুল কাদের তার শিক্ষকের কথা শুনে মৃদু হেসেছেন।

এমাজউদ্দীন একজন রাষ্ট্র দার্শনিক হিসেবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের জায়গায় নিতে পারেননি। সেন শাসনের গর্ভে জন্ম নেয়া বিএনপির কট্টর সমর্থক হয়েছেন। জীবনের পড়ন্ত বেলায় তিনি যখন বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রদূত বা রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্ন থেকে মাঠকর্মীদের পেছনে হাটছেন ওবায়দুল কাদের তখন মন্ত্রীই নন, আওয়ামী লীগের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক হয়ে নিজেকে জাতীয় নেতাদের কাতারে নিয়ে গেছেন। এখানে নষ্ট রাজনীতির ব্যবস্থাপনায় শিক্ষকের শিক্ষা না নিয়ে ছাত্র লাভবানই হয়েছেন। এসব কথা বাদ দিলেও প্রশ্ন উঠেছে বিএনপি এখন আগামী জাতীয় নির্বাচনে কি করবে? অন্ধ হলেও প্রলয় বন্ধ থাকে না।

বিএনপি নেতারা এমন কথা বলবেন, তেমন আবহাওয়াও রাজনীতিতে বইছে না তাদের অনুকূলে। নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। কর্মীদের চাঙা রাখতে আরেকপক্ষ বলছেন, খালেদা জিয়াকে নিয়েই তারা নির্বাচনে আসবেন। শাসক দলের দাবার খেলায় দল ভাঙা-গড়ার রাজনীতি সেনা শাসকরাই বেশি খেলেছিলেন। সেনাশাসক জিয়াউর রহমানও আওয়ামী লীগকে ভেঙে ছিলেন। আওয়ামী লীগের উপর কঠিন দমন-পীড়ন রেখেছিলেন। বিএনপি-জামায়াত শাসনামালে দমন-পীড়ন হত্যা ও একুশে গ্রেনেড হামলার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটেছে। রাজনৈতিক ইতিহাসের যাত্রাপথে নেতৃত্বহীন খাঁচাবন্দী বিএনপিকে শাসক আওয়ামী লীগ মনের মতো ছাই দিয়ে যেন ধরেছে। বিএনপিকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে খালেদা জিয়া ছাড়াই ঐক্যবদ্ধ ভোটযুদ্ধে অবর্তীর্ণ হওয়ার সুযোগটি নির্বিঘ্নে সরকার দেবে এমনটি সাদামনে কেউ ভাবছেন না। ভ্রু কুঁচকে নানা আশঙ্কার ও সংশয় প্রকাশ করছেন।

বলাবলি হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়া ভোটের আগে যেমন কারামুক্ত হচ্ছেন না। তেমনি তার নির্বাসিত পুত্র তারেক রহমান আরো বড় ধরনের মামলায় দণ্ডিত হতে যাচ্ছেন। আগামী জাতীয় নির্বচন সামনে রেখে কার্যত রাজনীতিতে মাইনাস ওয়ান ফর্মুলাই নয়, জিয়া পরিবারকে বাইরে রাখা হাচ্ছে। অর্থাৎ খালেদা জিয়াই মাইনাস হচেছন না। জিয়া পরিবারেরও অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ হচ্ছে এই নির্বাচনের।

অন্যদিকে নানা মামলায় ও নৈতিক দুর্বলতার কারণে বিএনপির অনেক নেতা সরকারের শিকারে পরিণত হচ্ছেন। এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ সরকার। বিএনপির প্রভাবশালী একজন নেতা যিনি আইনি লড়াইয়ে বাড়ি হারিয়েছিলেন, তিনি সেই বাড়ির ক্ষতিপূরণ নগদ অর্থে পেয়ে যাচ্ছেন এমন গুজবও বাতাসে ভাসছে। কারো ব্যাংক ব্যবসা রক্ষা পাচ্ছে। কারো মামলা থেকে মুক্তি মিলছে। বিনিময়ে বিএনপি ভেঙে একাংশের অংশগ্রহণ ঘটতে যাচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনে। অন্যদিকে কারারুদ্ধ বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি অনুগত দলের একটি বৃহৎ অংশ তাদের নেত্রীকে ছাড়া নির্বাচন করবেন না। এই ইস্যুতে অনড় থেকে ভোট বর্জনের পথ হাঁটবেন। এতে করে আওয়ামী লীগ মনের মতো সংসদ ও আরেক টার্ম নির্বিঘ্নে ক্ষমতায় আসবে।

বলাবলি হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধে নেত্বদানকারী দলটি ক্ষমতায় থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের সুযোগটি হাতছাড়া করতে চায় না। ভোটযুদ্ধ সামনে রেখে রাজনীতির শেষ দৃশ্য কিভবে মঞ্চস্থ হয় সেটিই দেখার অপেক্ষা।

লেখক: প্রধান সম্পাদক, পূর্বপশ্চিমনিউজবিডি.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এসএসসিতে পাসের হার ৭৭.৭৭%

Share চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ১০ শিক্ষা বোর্ডে গড়ে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। রবিবার ...

লোটাস কামালের দুর্গে বিএনপির দুই ভূঁইয়ার দ্বন্দ্ব!

Share নাঙ্গলকোট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন, নবগঠিত লালমাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে কুমিল্লা-১০ আসন। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্যতম বড় আসন এটি। আসনের প্রতিটি ...