আজ : বুধবার, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ১৫ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী, সকাল ১১:৩৩,

কুমিলা জেলার তিন কবির সাহিত্য পরিচয়

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস
“বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না” বিখ্যাত উক্তিটির সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত প্রত্যেক কবি সাহিত্যিকের জীবন। ইসলামের ইতিহাস ও ইসালামের আবির্ভাব এর পরর্বতী যুগ থেকেই যত্রা শুরু সাহিত্যের। সাহিত্য মানুষের অতীত জীবন সর্ম্পকে জানার সুযোগ করে দেয়। আর যুগে যুগে সাহিত্যের ইতিহাসে অসংখ্য কবি সাহিত্যিকের জন্ম হয়েছে আরো হবে। কেউ বিখ্যাত হয়েছেন, কেউ রয়ে গেছেন আলোচনার বাহিরে। বার্তমানেও বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য কবি। যারা নিয়মিত সাহিত্য চর্চা করে চলেছেন, অথচ মিডিয়ার সার্ভিক সহযোগিতার অভাবে এদের অনেকেই রয়ে গেছে পর্দার আড়ালে। আজ এমনই তিন জন কবির কথা তুলে ধরছি- যারা চলেছেন নিয়মিত সাহিত্য চর্চা করে। এদের মধ্যে প্রথমেই রয়েছেন সাংবাদিক, লেখক, কবি ও সংগঠক মুকুল মজুমদার।

মুকুল মজুমদার
মৃত. মো: আব্দুল মালেক ও মোসা: রাবেয়া বেগম এর পঞ্চম সন্তান মো: নাজমুল হক মুকুল মজুমদার। জন্ম ১৯৯১ এর ২৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা নাঙ্গলকোট উপজেলার মক্রবপুর গ্রামের মুসলিম পরিবারে। বর্তমানে পড়ছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এ। সাহিত্যচর্চা করেন ছোটবেলা থেকেই। চর্চার প্রথম বিষয় ছিলো কৌতুক লেখা, তার পর ছড়া দিয়ে সাহিত্য জগতে প্রবেশ করেন কবি। প্রথম কবিতা প্রকাশ পায় ২০০৮এর ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস সংখ্যা, দৈনিক কুমিল্লার কাগজ এ। এরপর অনেক পত্রিকায় স্থান হয়েছে এ লেখকের লেখা। ২০১০এ প্রথম প্রকাশ পায় লেখকের প্রথম কাব্যগ্রন্থ “ডায়েরী” এর পর প্রকাশ হয় “এনগেজম্যান্ট” উপন্যাসটি। প্রকাশ হয়- নিশিকাঞ্চন, ভাঙ্গামন, মেহেরুন’সহ আরো কয়েকটি গ্রন্থ। লেখক সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন ২০০৯ এ যখন লাকসাম নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজে পড়েন তখন থেকে। সাপ্তাহিক “আলোর দিশারী”র হাত ধরে লেখা শুরু! দৈনিক আমার দেশ, নয়া দিগন্ত, কালের কন্ঠসহ বেশ কিছু পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশ হয় লেখকের অসংখ্য লেখা। সাংবাদিক, লেখক, কবি ও সংগঠক মুকুল মজুমদার ইতিমধ্য সম্পাদনাও করেছেন সাহিত্য ম্যাগাজিন- প্রভাত ও রাইটার্স ম্যাগাজিন, সাহিত্য পত্রিকা- মাসিক নেট, সাহিত্য সাংস্কৃতিক ও সমাজিক সংগঠন নিশিকাঞ্চন এর মাসিক পত্রিকা ’নিশিকাঞ্চন” এবং সম্পাদনা করেছেন মাসিক দেয়াল পত্রিকা ”নিশিকাঞ্চন”। তিনি এক সময় প্রকাশনা ও সম্পাদনা করতেন অনলাইন পত্রিকা ব্রেভটাইম২৪ ডট কম। বর্তমানে সম্পাদনা করছেন জাতীয় অনলাইন পত্রিকা সোনালীদেশ ডট কম। এছাড়াও তিনি নিয়মিত লিখছেন কুমিল্লা জেলার জনপ্রিয় পত্রিকা সাপ্তাহিক সময়ের দর্পণ এর। প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন- ”আমাদের নতুন সময়” পত্রিকায়। একজন সংগঠক হিসেবেও রয়েছে কবি মুকুল মজুমদার এর সমান দক্ষতা। ছোবেলা থেকে তিনি সংগঠন করতে ভালোবাসেন। ফুলকুঁড়ি ছিল তার এক সময়ের প্রিয় সংগঠন, এর পর নিশিকাঞ্চন, সবুজ তরঙ্গ, নেট, রাইটার্স এসোসিয়েশন, সাংবাদিক সমিতি, প্রেসক্লাব ও আবৃত্তি সংগঠনসহ অনেক সংগঠনের সাথে কাজ করে চলেছেন। লেখালেখির ধারাবাহিকতায় “বসন্তের প্রথম সকাল” নামক সম্পাদিত গ্রন্থটি লেখক(সম্পাদক) মুকুল মজুমদর এর ৭ম গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশ হয়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮তে। লেখকের অন্যান্য গ্রন্থগুলোর মত এ গ্রন্থটিও পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
এসেছে নতুন শিশু তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তুপ- পিঠে চলে যেতে হবে আমাদের। চলে যাব তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণপনে প্রথিবীর সরাব জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর কাছে বাসযোগ্য করে যাব আমি। কবি সুকাস্ত ভট্টাচার্য তার কলমে এমনই কিছু চরণ রচনা করে গেছেন যা পড়ে আমরা অণুপ্রাণিত হই, তারই সূত্র ধরে আমরাও গাইতে চাই জঞ্জাল মুক্তের গান। কলমের খোঁচায় যে কবিরা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। তাদের মধ্যে কবি মাহবুব হাসান একজন।

মাহবুব হাসান
১৯৮৮ সালের ২ই অক্টোবর বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ সফিকুল ইসলাম ও মাতা মিসেস তাহেরা বেগম। কিশোর বয়সের কচি মন নিয়ে অষ্টম শ্রেণি থেকেই সাহিত্যচর্চা শুরু করেন এবং সাহিত্যাঙ্গনে তার হাতেখড়ি কবিতা দিয়ে। পাশাপাশি তিনি নিজের অক্লান্ত শ্রম, নিরলস চেষ্টা, মেধা ও মননে একের পর এক রচনা করে যান শিশুতোষ রম্য ছড়া, ছোট গল্প, ইসলামিক সঙ্গীত, গজল ও উপন্যাস। বর্তমান সময়ের আধুনিক কবিতায় কবির রয়েছে নিজস্ব অবস্থান। আধুনিক কবি বলেই বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনে তিনি সম্মাননা পদক অর্জন করেন। একই সাথে তিনি সাহিত্যের ধারক ও বাহক হিসেবে অর্জন করতে থাকেন পরিচয়, সুনাম, খ্যাতি ও মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা। সবার ভালোবাসা সাথে নিয়েই তিনি এগিয়ে চলেন সাহিত্যাঙ্গনে তার সফলতার পথে। কবি মাহবুব হাসান এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “তোমার প্রেমের প্রতিদান” ২০১৩ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় এবং সে সময় গ্রন্থটি ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা অর্জন করে। ২০১৬ সালের একুশে বইমেলাতে প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ “নীরব কান্না”। এ বইটিও পাঠক হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে কবিকে নিয়ে যায় সাম্প্রতিক কালের কবি পরিচিতির শিখরে। ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার সম্পাদনায় দু’টি যৌথ কাব্যগ্রন্থ- “প্রবাস প্রান্তরে” ও “ভালোবাসার সাত রং”। দু’টি গ্রন্থই পাঠকের হৃদয় কেড়ে নিয়ে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করে। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি পাঠকদের জন্য ২০১৮ এর বইমেলায় গল্প গ্রন্থ “অতৃপ্ত হৃদয়ের ভালোবাসা” এবং সম্পাদনা করেছেন কাব্যগ্রন্থ “কাব্য কানন”। গ্রন্থ দু’টিও পাঠক হৃদয়ে স্থান করে নেবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এছাড়াও তিনি স্বনামধন্য অনলাইন সাহিত্য সংগঠন ‘বাংলাদেশ কবি সভা’র মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং বাংলাদেশ কবি সভা’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সহ-সভাপতি।
বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশে^ অনলাইনের সুবাদে সাহিত্য চর্চার মাত্রা বেড়ে চলেছে। যারা এ সময়ে সাহিত্য চর্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকে তারাও রচনা করতে চায় কালজয়ী কিছু চরণ যা অমর হয়ে থাকবে ইতিহাসের পাতায়। কবিতাঙ্গণে অবদান রাখার জন্য কিংবা গল্পে, হতে পারে উপন্যাসে কিংবা প্রবন্ধে কোন লেখকের স্বীকৃতি। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের “ছাড়পত্র” কবিতার মত প্রবীণদের পাশাপাশি যদি নবীণরা যায়গা করে নেন তবেই পূরণ হতে পারে সেই স্বপ্ন। আর এমনই স্বপ্ন দেখা কবিদের মধ্যে তাছলিমা শাহনুও একজন।

তাছলিমা শাহনুর
মরহুম, সৈয়দ আব্দুর রশীদ ও মরহুমা, সৈয়দা আমেনা খাতুন এর ৫ম সন্তান কবি তাছলিমা শাহনুর। পহেলা জানুয়ারি ১৯৮১ সালে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার গুন্তি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি । বাবার হাতেই নেন তার জীবনের প্রথম হাতের খড়ি। স্কুলের দেয়াল পত্রিকায় লেখা প্রকাশের মধ্য দিয়েই কবির পদচারনা শুরু এ জগতে । কবিতা, উপন্যাস ও ছোট গল্পে সমান লেখার চর্চা থাকলেও কবিতাকেই আপন করে নেন কবি তাছলিমা শাহনুর। বেশ কয়েকটি দৈনিক ও পাক্ষিক পত্রিকায় কবিতা ও ছোট গল্প প্রকাশিত হয়। সখের বসে ছবি আঁকা, স্কুল জীবন থেকেই কবিতার প্রতি মুগ্ধতায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আবৃতি আয়ত্ব ও অভ্যস্ত হয়ে উঠেন কবি। মানব সেবায়ও জীবনের অংশ হিসেবে নিয়েছেন তিনি। তাই তো সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পাশে নিজেকে একজন শিক্ষিকা, একজন মা হিসেবে মুক্তির স্বাদ খুঁজে বেড়ান কবি। কবির একক ও সম্পাদিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে-হৃদয়ে লিখি নাম(কাব্যগ্রন্থ), প্রেম সাগরের তীরে(কাব্যগ্রন্থ), গোধূলির আলো(কাব্যগ্রন্থ), গৃহত্যাগী জোছনা(প্রবন্ধ), অন্তঃদৃষ্টি(অনু গল্প ও কবিতা), সময়ের ব্যবধানে জীবন(উপন্যাস), অমীমাংসিত (কাব্যগ্রন্থ), ঘাস ফুলে শিশির নেই(কাব্যগ্রন্থ), বসন্তের প্রথম সকাল (কাব্যগ্রন্থ) ইত্যাদি। আশা করছি কবি তাছলিমা শাহনুর এর অন্যান্য লেখা গল্প কবিতার মতই এ গ্রন্থের কবিতাগুলোও পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
সবশেষে বলতে পারি সাহিত্য হোক সমাজের দর্পণ। সমাজ গড়ে ওঠুক সুন্দর মনের মানুষ গড়ার পল্লী হিসেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ঝড়-বৃষ্টি চলবে আরও ৭ দিন

Share ঝড়-বৃষ্টি থেকে সহসা রেহাই মিলছে না। আগামী ৬ থেকে ৭ দিন  দেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে এবং অনেক অঞ্চলে কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিসে। আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান,  সারাদেশে আগামী ৬ ...

আগের থেকেও আরও বড় কুমিল্লা-১০ নির্বাচনী আসন!

Share তানিয়া আক্তার, সোনালী দেশ: দেশের সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস চূড়ান্তকরণের ফলে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন করেছে ইসি। চূড়ান্ত সীমানায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের দক্ষিণের ৯টি ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে কুমিল্লা-৬ ...