আজ : বৃহস্পতিবার, ৬ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০১৯ ইং, ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী, সকাল ৮:০১,

নাঙ্গলকোট থেকে সুপ্রিম কোর্ট! যেভাবে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ

সোনালী দেশ.কম:: 

নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের গ্রাম কোথায়? বিষয়টি নিয়ে অনেকের আগ্রহ ছিল। নানা জনের জিজ্ঞাসাও ছিল। তবে সব শেষ জানা গেল তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলায়। ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তার পিতা সৈয়দ মোস্তফা আলীও একজন আইনজীবী।

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং সাবেক সরকারি কৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর মা বেগম কাওসার হাসান গৃহিণী।

সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের শিক্ষা জীবনের কেটেছে কুমিল্লা শহরে। কুমিল্লা জেলা স্কুল থেকে ১৯৭২ সালে সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯৭৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষা এবং একই কলেজ থেকে ১৯৭৬ সালে বিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে ১৯৮০ সনে কুমিল্লা আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৮১ সালে আইনজীবী হিসেবে জেলা বারের সনদ প্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় বাবা-মায়ের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বরণ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমার পিতা-মাতার অমূল্য অবদান স্বরণ করছি। তাদের স্নেহ, ভালোবাসা, অনুপ্রেরণা এবং দোয়া আজ আমাকে সাফল্যের এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘তারা আজও আমার সব কাজের অনুপ্রেরণা। আমার পিতার কাছে আমার আইন পেশার হাতেখড়ি।’

রোববার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে দেয়া সংবর্ধনার পর প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতির শতবর্ষী বাবা-মা এখনও জীবিত রয়েছেন। বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত শপথ অনুষ্ঠানে গতকাল শনিবার তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভে নিজেকে ধন্য ও গর্বিত মনে করছেন উল্লেখ করে সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি আমার জন্য একটি সৌভাগ্যবান মাস। ২০০১ সালের এ মাসের ২২ ফেব্রুয়ারি আমি হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করি। দুই বছর পর ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আমার নিয়োগ হাইকোর্টে স্থায়ী হয়। এর ঠিক আট বছর পর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগে নিয়োগ লাভ করে শপথ গ্রহণ করি।

আবার এ মাসেই আমি প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছি। তাই ভাষা শহীদের স্বরণে আমি আমার বক্তব্যে বাংলাতে প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নাঙ্গলকোট রাইটার্স এসোসিয়েশনের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

Share স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লার নাঙ্গলকোট রাইটার্স এসোসিয়েশনের রেজি:, বিজয় দিবস উদযাপন, বাৎসরিক প্রোগ্রাম ও আগামি ২০ নভেম্বর এসোসিয়েশনের ১০ বর্ষে পদার্পন উপলক্ষে পরামর্শ সভা ২ নভেম্বর শুক্রবার বিকাল ৪টায় পৌরসভার রওশন রফিক একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। ...

দ‌ক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্য চুইঝাল!

Share মৃত্যুঞ্জয় রায়, খুলনা: খুলনা বিভাগে চুইঝাল এত জনপ্রিয় যে একে খুলনার কৃষিপণ্য হিসেবে ব্র্যান্ডিং করাই যায়। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারে আব্বাসের হোটেল চুইঝাল দিয়ে রান্না করা খাসির মাংসের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। চুইঝাল-মাংস খুলনার ...