আজ : মঙ্গলবার, ২রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জুলাই, ২০১৮ ইং, ৩রা জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী, দুপুর ১:৪৬,

ছাত্রীকে জাবি শিক্ষকের গোপনে বিয়ে : সন্তান জন্মের পর তালাক!

জাগো নিউজ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও সাবেক সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আফসার আহমদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও অসদাচরণের অভিযোগ এনেছেন তার তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রী। সাবেক এই স্ত্রী এক সময় সরাসরি তার বিভাগেরই ছাত্রী ছিলেন। বর্তমানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করছেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক আফসারের অধীনে পিএইচডি করছেন।

জানা গেছে, গত ১৭ জানুয়ারি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। সেখানে তিনি অধ্যাপক আফসারের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি, বিয়ে ও সন্তানকে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং জোরপূর্বক গর্ভপাতসহ নানা অভিযোগ তোলেন। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য গত বছরের ২৪ আগস্ট ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানায় একটি সাধারণ ডায়রিও করেন তিনি।

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, অধ্যাপক আফসার তার অসুখী দাম্পত্য জীবনের কথা জানান তাকে। এতে তার প্রতি মায়া জন্মে তার। ইতোমধ্যে অধ্যাপক আফসার তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ২০১৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হবে বলে তাকে আশ্বাস দেন। এর ধারাবাহিকতায় ওই বছর ২৪ নভেম্বর আফসার আহমদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। কিন্তু আফসার আহমেদ নানা অজুহাতে বিয়ের কথা গোপন রাখেন এবং তাকেও গোপন রাখতে বাধ্য করেন। ইতোমধ্যে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার গর্ভধারণ করলে অধ্যাপক আফসার জোরপূর্বক গর্ভপাত করান তাকে। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে তারা পুনরায় বিয়ে করেন।

kabinnama

২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয়বার তিনি গর্ভধারণ করলে আবারও গর্ভপাতের জন্য তাকে চাপ দেন আফসার। অন্যথায় হত্যার হুমকি দেন। কিন্তু এতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আত্মগোপনে যান তিনি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর পুত্র সন্তান জন্ম দেন তিনি। এর দুদিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে তালাক নোটিশ পাঠান আফসার আহমদ।

অভিযোগপত্রে অধ্যাপক আফসারের এই কর্মকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে একই বিভাগের এক শিক্ষক ও তার স্ত্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেছেন তিনি।

তার দাবি, তার মতো কেউ না কেউ এখনও অধ্যাপক আফসারের প্রতারণার শিকার হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এর শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী ওই শিক্ষিকা বলেন, গত ১৭ তারিখ উপাচার্য কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু উপাচার্য না থাকায় তার সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। সংক্ষেপে অভিযোগপত্রেই সব বলেছি। এর বাইরে তেমন কিছু বলার নেই। তবে এখনও অনিরাপদ জীবন যাপন করছি।

উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে তার একান্ত সচিব (সহকারী রেজিস্ট্রার) মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, বিস্তারিত জানি না। তবে এ রকম শুনেছি।

জানতে চাইলে অধ্যাপক আফসার আহমেদ বলেন, এভাবে ফোনে বলা মুশকিল। এর পেছনে আরো অনেক কথা আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এসএসসিতে পাসের হার ৭৭.৭৭%

Share চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ১০ শিক্ষা বোর্ডে গড়ে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। রবিবার ...

লোটাস কামালের দুর্গে বিএনপির দুই ভূঁইয়ার দ্বন্দ্ব!

Share নাঙ্গলকোট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন, নবগঠিত লালমাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে কুমিল্লা-১০ আসন। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্যতম বড় আসন এটি। আসনের প্রতিটি ...