আজ : রবিবার, ২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী, বিকাল ৩:১১,

মাগুরায় তিন মাসে ৬৫ জনের আত্মহত্যা

মাগুরায়-তিন-মাসে-৬৫-জনের-আত্মহত্যাসোনালী দেশ ডেস্ক: মাগুরায় আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মাগুরা পুলিশ অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে জেলার চার থানায় ৬৫টি আত্মহত্যা বা অপমৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
এদের মধ্যে ৪০ জন ফাঁস দিয়ে, ১৯ জন বিষপানে এবং অন্যান্যরা গুলপান, বিদ্যুতায়িতসহ বিভিন্নভাবে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে নারী-পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান হলেও অর্ধেকের বেশি আত্মহননকারীর বয়স ৩০ বছরের নিচে।
যার মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সের নিচে শিশু ও কিশোর-কিশোরী রয়েছে। এদের সংখ্যা ১০ জন। তবে বেসরকারি হিসেবে আত্মহত্যার ঘটনা আরো বেশি রয়েছে।
একাধিক সমাজবিজ্ঞানী ও চিকিৎসক জানান, বেকারত্ব, পারিবারিক কলহ, প্রেম-বিরহ, বিচ্ছেদ এর কারণে মানুষ এক সময় আত্মহত্যার পথ বেছে নিতো। সাধারণত মানুষিক সমস্যা, অত্যন্ত আবেগী চরিত্র ও জেদি প্রকৃতির মানুষেরা নানা ব্যর্থতার কারণে আত্মহত্যা করতো। কিন্তু এখন ছোটখাট বিষয়ে মানুষ অত্মহত্যার করছে।
সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক খান মাজহারুল হক লিপু বলেন, এ বছরের শুরুতে মাগুরা সদরের রামনগর গ্রামে অন্তরা ও চৈত্রি নামে স্কুল এবং কলেজ পড়ুয়া দুই বোন এক সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। বাবা ও পরিবারের অভিভাবক দুই বোনের প্রেমিককে অপমান করায় তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সময়ে সব প্রাপ্তিই সহজ হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটলে মানুষ আত্মহত্যা করছে। এমন কিছু আত্মহত্যার ঘটনা রয়েছে যারা পছন্দের মোবাইল ও পোশাক না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে। সামাজিক অস্থিরতাই আত্মহত্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলেও মনে করেন তিনি।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহেল কাফি সঙ্গে আলাপচারিতায় জানান, সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন নড়বড়ে হওয়ার কারণে অত্মহত্যার সংখ্যা বাড়ছে। এখন সহজ প্রাপ্তির কারণে মানুষ ভোগবাদী হয়ে পড়েছে। সামান্য না পাওয়ার ঘটনা ঘটলে মানুষ রিঅ্যাকশন করছে। মানুষিক ভারসম্য হারাচ্ছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে অব্যশই পারিবারিক বন্ধন মজবুত করতে হবে।
বিষপানে আত্মহত্যা করতে গিয়ে বেঁচে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, মানুষ যখন একা হয়ে যায় তখন আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। কিন্তু ওই যুবক বলেন, আত্মহত্যা যে সঠিক কাজ নয় বেঁচে যাওয়ার পর সেটা বুঝতে পেরেছেন তিনি।
এ বিষয়ে মাগুরার পুলিশ সুপার (এসপি) একেএম এহসান উল্লাহ জানান, সামাজিক নৈরাজ্যের পাশাপাশি পারিবারিক অস্থিরতার কারণে আত্মহত্যার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। এখন যৌথ পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। মা-বাবা বা পরিবারের সদস্যরা সন্তানদের সময় দিচ্ছেন না। বিপদে কেউ কাউকে পাশে পাচ্ছে না।
প্রতিবেশী বা কাছের আত্মীয়-স্বজনরা এখন কেউ কারো খোঁজ-খবর রাখে না। স্ব-স্ব জায়গা থেকে আমরা বর্তমান প্রজন্মকে পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও ধর্মীয় শিক্ষা দিতে পারছি না। এছাড়া তথ্য প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহারও কিছু-কিছু আত্মহত্যার পেছনে কাজ করছে।
যে কারণে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধারাবাধিকভাবে মতবিনিয় সভা করা হচ্ছে। তাছাড়া মাগুরা পুলিশ পারিবারিক বিচ্ছেদ রোধে স্বামী-স্ত্রী বা পরিবারের অন্যদের দ্বন্দ্বের কারণে নারী নির্যাতনের মামলা নেয়ার আগে উভয় পক্ষকে ডেকে সমঝোতার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অজগর দিয়ে শরীর ম্যাসাজ!

Share চেহারা সুন্দর রাখতে আমরা কত কিছুই না করি! ত্বককে আরাম দিতে মাসে এক বার হলেও স্পা, নানা রকম উপাদেয় দিয়ে স্বাস্থ্যকর ম্যাসাজ করে থাকি। কখনো কি শুনেছেন, একটা অাস্ত অজগর দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করার কথা? ঠিক ...

অনাথ, অসহায়ের শাসনকর্তা হতে চাই: ইমরান

Share ভোটগণনায় ইমরানের ক্ষমতায় আসা প্রায় নিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত ১৩৭-এর ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পারলেও বিলাবল জারদারির পিপিপি-র সঙ্গে জোটের রাস্তাও প্রায় পাকা। ফলে পাক প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন ...