আজ : মঙ্গলবার, ২রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জুলাই, ২০১৮ ইং, ৩রা জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী, দুপুর ১:৪৩,

কাঠের সাঁকোয় পারাপার!

About The Author

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধায় কাঠের সাঁকোয় চারটি গ্রামের মানুষের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার। পৌরসভার জুম্মাপাড়া এলাকায় পুরাতন ঘাঘট নদীর উপর নির্মিত এ সাঁকোটি। এই কাঠের সাঁকোটির পাশেই একটি সেতু নির্মাণ করবে এলজিইডি। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন হতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগবে। তাই যাতায়াত যাতে বন্ধ না হয় সেজন্য কাঠের সাঁকোটি মেরামত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাঁকোটির দুইপাশেই ওঠার সময় ও মাঝখানে কাঠের পাটাতন ভেঙ্গে ও নষ্ট হয়ে খুলে গেছে। ফলে সে জায়গাগুলো ফাঁকা রয়েছে। খুঁটিগুলোর গোড়া আলগা হয়ে যাওয়ায় পারাপারের সময় নড়াচড়া করে সাঁকোটি। সেসময় ধীরে ধীরে কাঠের সাঁকোটি ধরে পারাপার হতে হয় মানুষদের। অন্ধকার রাত্রিতে এ সমস্যা আরো বেশি ভোগায় মানুষকে।

এর আগে দীর্ঘদিন থেকে এই স্থানে একটি সেঁতু নির্মাণের জন্য দাবি করে আসছিল এলাকাবাসী। সেঁতুর বদলে কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও উপকার পায় মানুষ। কিন্তু সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেই কাঠের সাঁকোটিই এখন মানুষকে ভোগাচ্ছে। সাঁকোটি দিয়ে চলাচলকারী জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন আকন্দ বলেন, কাঠের সাঁকোর কারণে মানুষের খুব উপকার হয়েছে।

কিন্তু সেটি নির্মাণের পর সংস্কার না করায় বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরেছে। চলাচলের সময় সাঁকোটি দোলে। কাঠের পাটাতনগুলো পুরোনো হয়ে যাওয়ায় ভয়ে ভয়ে পার হতে হচ্ছে সাঁকোটি। এমতাবস্থায় খুব দ্রুত সাঁকোটি মেরামত করা প্রয়োজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুঠিপাড়া এলাকার এক কলেজছাত্র বলেন, সাঁকোটির কারণে খুব অল্প সময়েই আমরা জেলা শহরে প্রবেশ করতে পারি।

কিন্তু  ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও বাধ্য হয়েই অনেকদিন থেকেই কাঠের সাঁকোটির উপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেকেই বেশি এলাকা ঘুরে চলাচল করছেন। বিষয়টি বর্তমান কাউন্সিলর জানলেও মেরামতের কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না।

গাইবান্ধা পৌরসভা, কাউন্সিলর ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে গাইবান্ধা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জুর উদ্যোগে পৌরসভার অর্থায়নে দুই লক্ষাধীক টাকা ব্যয়ে একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে আর সাঁকোটি সংস্কার করা হয়নি।

বর্তমানে সাঁকোটি সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরেছে। সাঁকোটি দিয়ে খুব অল্প সময়েই জেলা শহরে প্রবেশ করতে পারে মানুষ। নির্মাণের পর সাঁকোটির উপর দিয়ে এ্যাকোয়ারস্টেটপাড়া, জুম্মাপাড়া, কুঠিপাড়া, পূর্বকোমরনইসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ মানুষ চলাচল করে। আর তাই এই সাঁকোটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পরেছে এলাকার মানুষজনের কাছে।

মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু বলেন, কাঠের সাঁকোটি নির্মানের পর আর কোন সংস্কার করা হয়নি। তাই সেটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কাঠের সাঁকোটির পাশে এলজিইডি কর্তৃক একটি সেতু নির্মাণ করা হবে। সেটি বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। তাই মানুষের চলাচল নিরাপদ করার জন্য আপাতত কাঠের সাঁকোটি মেরামত করা প্রয়োজন।

বর্তমান কাউন্সিলর ইউনুস আলী শাহীন বলেন, কাঠের  সাঁকোটি পৌরমেয়র একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া মেরামতের জন্য পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীকে বারবার তাগাদা দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ওই কাঠের সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়টি আমার জানা ছিল না।

এখন যেহেতু জানলাম, আমি মেয়র স্যারকে অবশ্যই জানাবো। এরপর বরাদ্দ পাওয়া গেলে মেরামত করা হবে।
গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহকারি প্রকৌশলী মো. সাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী মাসে কাজ শুরু হবে আর শেষ হতে সময় লাগবে প্রায় একবছর।

এসব বিষয়ে গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র এ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন বলেন, ওখানে সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করবে এলজিইডি। কাঠের সাঁকোটি মেরামতের বিষয়টি আমি দেখছি। 

About The Author

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এসএসসিতে পাসের হার ৭৭.৭৭%

Share চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ১০ শিক্ষা বোর্ডে গড়ে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। রবিবার ...

লোটাস কামালের দুর্গে বিএনপির দুই ভূঁইয়ার দ্বন্দ্ব!

Share নাঙ্গলকোট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন, নবগঠিত লালমাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে কুমিল্লা-১০ আসন। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্যতম বড় আসন এটি। আসনের প্রতিটি ...