আজ : সোমবার, ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুলাই, ২০১৮ ইং, ৯ই জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী, সকাল ১০:১০,

১০ মাসে ৩৮৬ শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ!

 জেলা প্রতিনিধি, যশোর: 

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ১০ মাসে স্কুল ও মাদ্রাসার ৩৮৬ জন শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ৩৮৬ জন এবং ছাত্র ২ জন। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এসব বাল্যবিবাহ হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, অভয়নগর উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫৮টি স্কুল এবং ২০টি মাদ্রাসা রয়েছে। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এসব স্কুল ও মাদ্রাসায় বাল্যবিবাহের ওপর জরিপ চালানো হয়। ১০ মাসে ওই স্কুল ও মাদ্রাসার ৩৮৬ জন শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে স্কুলের ২৮৩ জন এবং মাদ্রাসার ১০৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুলপর্যায়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ২২ জন, সপ্তম শ্রেণির ৪৩ জন, অষ্টম শ্রেণির ৫৪ জন, নবম শ্রেণির ৭৫ জন এবং দশম শ্রেণির ৮৯ জন শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ হয়। মাদ্রাসাপর্যায়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ১০ জন, সপ্তম শ্রেণির ৮ জন, অষ্টম শ্রেণির ২৮ জন, নবম শ্রেণির ৩২ জন এবং দশম শ্রেণির ২৫ জনের বাল্যবিবাহ হয়। উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভায় সবচেয়ে বেশি ১০৭ জন শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ হয়েছে। এ ছাড়া প্রেমবাগ ইউনিয়নে ২৫ জন, সুন্দলী ইউনিয়নে ১২ জন, চলিশিয়া ইউনিয়নে ১৪ জন, পায়রা ইউনিয়নে ৩০ জন, শ্রীধরপুর ইউনিয়নে ৭৪ জন, বাঘুটিয়া ইউনিয়নে ২৬ জন, শুভরাড়া ইউনিয়নে ৫১ জন এবং সিদ্দিপাশা ইউনিয়নে ৪৭ জন শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ হয়।

অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বাল্যবিবাহের ধারণা পেতে এই জরিপ চালানো হয়। কলেজে জরিপ চালালে বাল্যবিবাহের সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে। জরিপে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা রীতিমতো ভয়ংকর। বাল্যবিবাহ রোধে আমরা স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রিনা মজুমদার বলেন, ‘জরিপে বাল্যবিবাহের যে তথ্যটি এসেছে, তা অবশ্যই খারাপ। বেশির ভাগ বাল্যবিবাহ এলাকার বাইরে নিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের জানানো হয় না। অনেক দিন পর আমাদের কাছে খবর আসে। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে গেলে নিজে থেকে সচেতন হতে হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন। এ মাস থেকে উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মনো-সামাজিক কাউন্সেলিং শুরু করা হয়েছে।’

অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এম মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের জরিপে বাল্যবিবাহের যে তথ্য এসেছে তা শুধু ভয়ংকর নয়, ভয়ংকরের চেয়েও ভয়ংকর। অভিভাবকেরা মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা না করেই বাল্যবিবাহ দিয়ে দেন। বাল্যবিবাহ বন্ধে আমরা স্কুলে পরামর্শ সভা শুরু করেছি।’ তিনি বলেন, উপজেলা সমন্বয় কমিটির সর্বশেষ সভায় বাল্যবিবাহ বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এসএসসিতে পাসের হার ৭৭.৭৭%

Share চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ১০ শিক্ষা বোর্ডে গড়ে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। রবিবার ...

লোটাস কামালের দুর্গে বিএনপির দুই ভূঁইয়ার দ্বন্দ্ব!

Share নাঙ্গলকোট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন, নবগঠিত লালমাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে কুমিল্লা-১০ আসন। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্যতম বড় আসন এটি। আসনের প্রতিটি ...