আজ : মঙ্গলবার, ৯ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২২শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং, ১৫ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী, রাত ৯:৫০,

প্রতিটি ঘর হোক এক একটি পাঠাগার- আফজাল হোসাইন মিয়াজী

আফজাল হোসাইন মিয়াজী: 

বই আলোকিত করে তোলে মানুষকে। বই মানুষকে তার আত্মিক অন্বেষণের পথ নির্দেশ করে যা ক্ষুধা-তৃষ্ণা; শ্বাস-প্রশ্বাসের মতোই একান্ত জরুরি। আমাদের সমাজকে শিক্ষিত করে তুলতে হলে, শিক্ষিত রাষ্ট্র পেতে হলে আমাদের চাই আলোকিত মানুষ। আর আলোকিত মানুষ পেতে চাই পাঠাগার।

পাঠাগার হলো বই, পুস্তিকা ও অন্যান্য তথ্য সামগ্রির একটি সংগ্রহশালা, যেখানে পাঠকের প্রবেশাধিকার থাকে এবং পাঠক সেখানে পাঠ, গবেষণা কিংবা তথ্যানুসন্ধান করতে পারেন। পাঠাগার মানুষের জ্ঞানের সব দুয়ার উন্মোচন করে মানবাত্মা করে তোলে প্রজ্বলিত। পাঠাগার আমাদের চার পাশের রহস্যময় বিশ্বের দুয়ার খুলে দেয়। সমাজের মস্তিষ্ক ও জ্ঞানাধার হলো পাঠাগার।

আমাদের অভিভাবকদের একথা ভুলে গেলে চলবে না যে, বছর বছর পাশ করিলেই বিদ্যার্জন হয় না।
অভিভাবক সকলেই পাস চায় কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানার্জনের খুব একটা আগ্রহ দেখা হয় না। বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। শিক্ষার্থীরা আজকাল অবলীলায় বলে তাদের সার্টিফিকেট দরকার, জ্ঞানের দরকার নেই। অভিভাবকেরাও তাতে খুশি। কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি না বই দূরে ঠেলে দিয়ে, বই পড়া ভুলে গিয়ে কিসে আমরা বোকা জাতিতে পরিণত হচ্ছি।

আমাদের অভিভাবকদের উচিত সন্তানের হাতে এন্ড্রয়েড, ট্যাব তুলে না দিয়ে বই তুলে দেয়া। কারণ বই হচ্ছে পরম বন্ধু। বইয়ে ডুব দিয়ে মনের যত হতাশা, জ্বালা, যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। প্রত্যেকটি সন্তানকে বইমুখী করা উচিত।

আজকাল আমাদের তরুণসমাজ যান্ত্রিকতায় বিমোহিত। কিন্তু সময়ের দ্রুত পরিবর্তন-বিবর্তনের দ্বারা যান্ত্রিক সভ্যতার কবলে মানুষ বরণ করেছে দিন দিন যান্ত্রিক সভ্যতা। মানুষের মন মেজাজও হয়ে উঠছে যান্ত্রিক। ফলে অধিকাংশ তরুণসমাজ সাহিত্যবিমুখ। শিক্ষাব্যবস্থায় গলদ ও ঔপনিবেশিক কাঠামোর রাজনৈতিক ব্যবস্থা স্বাধীন দেশে বহাল থাকায় উচ্চশিক্ষারও একই হালচাল। মুক্ত সংস্কৃতি তরুণদের পড়ার সময় হরণ করছে। ভার্চুয়াল জগৎকে বইয়ের বিকল্প ভাবা ঠিক নয়।

নানা ঘাত-প্রতিঘাতে মানুষ যখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, হতাশার চোরাবালিতে ডুবে যায়, তখন এই চোরাবালি থেকে মুক্তি দিতে পারে একটি ভালো বই।
হুমায়ূন আজাদের কবিতার লাইন মনে পড়ে গেল
যে বই জ্বালে ভিন্ন আলো তোমাকে শেখায় বাসতে ভালো, সে বই তুমি পড়বে।

এ প্রসঙ্গে মনীষী বারট্রান্ড রাসেল বলেছেন, ‘সংসারে জ্বালা-যন্ত্রণা এড়াবার প্রধান উপায় হচ্ছে মনের ভেতর আপন ভুবন সৃষ্টি করে নেয়া এবং বিপদকালে তার ভেতর ডুব দেয়া, যে যত বেশি ভুবন সৃষ্টি করতে পারে, ভবযন্ত্রণা এড়াবার ক্ষমতা তার ততই বেশি হয়। আর বইপাঠই সেই ভুবন সৃষ্টিতে সর্বাধিক বেশি সাহায্য করে। বই শুধু জ্ঞানার্জনের উপায়ই নয়, বই সত্য, সুন্দর, আনন্দময় অনুভূতিতে পাঠকদেরকেও আলোড়িত করে। মানুষ বইপাঠের মাধ্যমে সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে। যুগে যুগে গ্রন্থ এনেছে ত্যাগের দীক্ষা, সত্য ও সুন্দরের সাধনা।

প্রত্যেক অভিভাবকের উচিত সন্তানের হাতে বই তুলে দেয়া এবং সন্তানকে বইমুখী করা নচেৎ এই উদাসীনতাই একদিন কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। পরিশেষে বলতে চাই…
সে দিনটির অপেক্ষায় রইলাম, যেদিনে প্রতিটি ঘর হবে এক একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার।

 

আফজাল হোসাইন মিয়াজী
(শিক্ষক, লেখক ও সাংবাদিক)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অজগর দিয়ে শরীর ম্যাসাজ!

Share চেহারা সুন্দর রাখতে আমরা কত কিছুই না করি! ত্বককে আরাম দিতে মাসে এক বার হলেও স্পা, নানা রকম উপাদেয় দিয়ে স্বাস্থ্যকর ম্যাসাজ করে থাকি। কখনো কি শুনেছেন, একটা অাস্ত অজগর দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করার কথা? ঠিক ...

অনাথ, অসহায়ের শাসনকর্তা হতে চাই: ইমরান

Share ভোটগণনায় ইমরানের ক্ষমতায় আসা প্রায় নিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত ১৩৭-এর ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পারলেও বিলাবল জারদারির পিপিপি-র সঙ্গে জোটের রাস্তাও প্রায় পাকা। ফলে পাক প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন ...