আজ : বুধবার, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ১৫ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী, সকাল ১১:৩৭,

আসছে সুখি হওয়ার যন্ত্র!

হলিউডের বিখ্যাত কৌতুক অভিনেতা জিম কেরি এবং টাইটাইক কুইনখ্যাত কেট উইনসলেট অভিনীত জনপ্রিয় ছবি ‘ইটারনাল সানশাইন অফ দ্য স্পটলেস মাইন্ড’ মুভিটির কথা হয়তো অনেকেরই মনে আছে। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া মুভিটিতে একটি বিশেষ যন্ত্রের ব্যবহার বেশ সাড়া ফেলেছিল তখন।
santir-jontro
নায়ক-নায়িকা দু’জনেই বিশেষ সেই যন্ত্রের মাধ্যমে কয়েক মিনিটের মধ্যে মগজ থেকে খারাপ স্মৃতি মুছে ফেলেছিলেন নিজেদের সম্পর্ক থেকে বের করতে। সিনেমার সেই কল্পবিজ্ঞানের কা- দেখে দর্শকরা ভালই মজা পেয়েছিলেন। কিন্তু এবার বাস্তবেই সেই কল্পবিজ্ঞানকে সত্যিতে রূপ দিতে পারবে বলে দাবি উঠেছে।

এনএইচএস এবং ইন্ডিয়া টাইমস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই কল্পবিজ্ঞান অচিরেই বাস্তবে পরিণত হওয়ার মুখে। সৌজন্যে কানাডার একদল বিজ্ঞানী আমেরিকার বোস্টনে চলছে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্সের বার্ষিক সম্মেলন। সেখানে বিজ্ঞানীদলের প্রধান, টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজির অধ্যাপক শিনা জোসেলিন এমনই আশ্চর্য দাবি করেছেন। যা বাস্তব হলে ড্রাগের নেশা ছাড়াতে বেশি সময় লাগবে না। ট্রমাটিক স্ট্রেস থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে অনেক সহজে।

জোসেলিনের দাবি, মানুষের মস্তিষ্কের গভীরে লুকিয়ে থাকা কোনও নির্দিষ্ট স্মৃতি মুছে ফেলা ¯্রফে সময়ের অপেক্ষা। তার গবেষণাগারে ইঁদুরের ক্ষেত্রে যে কাজটা বেশ সফল ভাবেই করা হয়েছে। তা আরও নিখুঁত করতে হবে মানুষের ক্ষেত্রে।

এ বিষয়ে জোসেলিন বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় বুঝতে পারছি নির্দিষ্ট একটি স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব। তবে এর জন্য আমাদের এথিক্যাল পলিসি তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ জীবনের যে স্মৃতিগুলো সুস্থ ভাবে বাঁচার পথে অন্তরায়, বেছে বেছে সেগুলো ধরে ‘ডিলিট’ করে দেওয়া সম্ভব। সম্পর্ক ভাঙার স্মৃতি হোক, দুর্ঘটনার বা কোনও অত্যাচারের, গবেষণা সফল হলে মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার সুযোগ তারা আর পাবে না।

ইঁদুরের উপর গবেষণাটি কত দূর এগিয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে জোসেলিনের গবেষণা দল জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে চমকে দেওয়ার মতো সাফল্য পেয়েছেন তারা। ইঁদুরের ভয় সংক্রান্ত স্মৃতি মুছে ফেলতে পেরেছেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিজ্ঞানীরা। মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিনকে তারা বেশি পরিমাণে তৈরি করেছিলেন মস্তিষ্কের মধ্যেই। তাতে বুঝতে পেরেছেন কোন স্নায়ুকোষগুলোতে আছে সেই প্রোটিনগুলো। এ ভাবেই খারাপ স্মৃতির স্নায়ুকোষগুলো চিনে ফেলে জেনেটিক উপায়ে সেগুলোকে নিখুঁত ভাবে সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন ওই বিজ্ঞানীরা। আর তাতেই মানুষের ক্ষেত্রে গবেষণায় সাফল্যের আশা বেড়েছে জোসেলিনদের।

প্রতিবেদনে একটি উদাহরণ টেনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ক্লেমেন্টাইন যান নিউইয়র্কের এক ক্লিনিকে। প্রেমিকা জোয়েলের সঙ্গে সদ্য বিচ্ছেদের স্মৃতিগুলো এক মুহূর্তও ভালো থাকতে দিচ্ছে না তাকে। অতএব ‘মগজধোলাই’ দরকার। ক্লিনিকে যাওয়ার পর সেখানকার কর্মীরা বিচ্ছেদকাতর ক্লেমেন্টাইনের মাথায় লাগিয়ে দেন সেই আজব যন্ত্র! যেন সিটি স্ক্যান চলছে। কত যে তার জুড়ে সেই যন্ত্রের সঙ্গে। কয়েক ঘণ্টা পর থামল যন্ত্রটা। চোখ খুলল ক্লেমেন্টাইন। কিন্তু সে আর আগের মানুষ নেই। বেজার মুখের বদলে একেবারে হাসিখুশি, চনমনে। কারণ সদ্য চুকেবুকে যাওয়া খারাপ সম্পর্কের কণামাত্র আর নেই তাঁর স্মৃতিতে। যন্ত্রটি নিখুঁত ভাবে ধুয়েমুছে সাফ করে ফেলেছে জোয়েলের সঙ্গে তার তেতো হয়ে যাওয়া সম্পর্কের সবটুকু!

গবেষণা দল জানিয়েছে, নির্দিষ্ট ভাবে স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব হলে সবচেয়ে লাভ হবে ড্রাগের নেশাখোরদের। কোকেন, হেরোইন সংক্রান্ত স্মৃতিগুলো মুছে ফেললে ড্রাগের নেশা তাড়ানোও সহজ হবে। তেমনই লাভ হবে পিটিএসডি’র (পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসর্ডার) রোগীদের। যা খুব বেশি হয় যুদ্ধ থেকে ফিরে আসা সেনাদের। তাদের ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া সম্ভব নির্দিষ্ট স্মৃতি মুছে ফেলে।

একই সঙ্গে জুড়ে থাকছে বিতর্কিত কিছু প্রশ্নও। সাফল্য পেলেও তাই জোসেলিনরাই দাবি করছেন, স্মৃতি মুছে ফেলার এই গবেষণার ক্ষেত্রে তৈরি করা হোক নির্দিষ্ট কিছু নীতি। জোসেলিনের কথায়, ‘এই গবেষণার একটা খারাপ দিকও আছে। আমরা নিজেদের ভুল থেকেই শিক্ষা নিই। তাই কোনও খারাপ স্মৃতি মুছে ফেললে হয়তো দেখা যাবে একই ভুল আবার করে ফেললাম। ’
তার যুক্তি, ‘কিছু করা সম্ভব মানে সেটা করতেই হবে, এ রকম কোনও কথা নেই। তাই এই গবেষণার এথিক্যাল দিকগুলো ভালো করে খতিয়ে দেখা উচিত।’

কেট উইনসলেট -জিম কেরির সিনেমায় দেখা গিয়েছিল ঠিক এই দিকটাই। সম্পর্কের স্মৃতি মুছে যাওয়ার পর যখন ক্লেমেন্টাইন ও জোয়েলের দেখা হয়েছিল, কেউ কাউকে চিনতে পারেননি। সে জন্যই হয়তো আবার তারা প্রেমে পড়েছিলেন।

সিনেমা বাস্তব হতে এখনও কিছু সময় বাকি। তবে জোসেলিনরা আগে থেকেই সজাগ থাকতে চাইছেন স্মৃতি মুছে ফেলার খারাপ দিকগুলো নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সৌন্দর্য্যের দিক থেকে কুমিল্লার মেয়েরা কেন সেরা??

Share কুমিল্লার সেরা বিউটিশিয়ানরা বর্ণনা দিয়েছেন তাদের দৃষ্টিতে কুমিল্লার মেয়েদের সৌন্দর্য্য। কুমিল্লার প্রাচীন ও নামকরা সব বিউটি পার্লা ঘুরে বিউটিশিয়ানদের মতামত নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন এম. বিল্লাল হোসেন। কুমিল্লার মেয়েরা অনেকটা রূপ সচেতন —মাহফুজা আক্তার ...

মডেলিং জগতে চৌদ্দগ্রামের আরমান

Share নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক সোনালী দেশ : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কৃতি সন্তান তরুণ অভিনেতা আরমান চৌধুরী খুব অল্প সময়ে অভিনয় জগতে সাফল্য অর্জন করেছেন। সাফল্য যেন তার হাতে ধরাশায়ী। প্রথম সাফল্যের পর অভিষেক হলো মডেলিং জগতে। ...