আজ : মঙ্গলবার, ২রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জুলাই, ২০১৮ ইং, ২রা জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী, রাত ১২:৩৮,

স্মার্টফোন আমাদের বোকা বানাচ্ছে?

জন্মদিন ভুলে যাওয়া নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে লড়াই এখন কম হয়। সে জন্য ফেসবুক তো আছেই। সতেরো দুগুণে কত, তা বলতেও এখন পকেট থেকে ফোন বের করে ক্যালকুলেটর অ্যাপে হিসাব কষতে হয়। এমন অনেক কিছুই এখন আর কেউ নিজের মস্তিষ্কে সংরক্ষণ করতে রাখতে চায় না। কারণ ওই একটাই। সকল কাজের কাজি স্মার্টফোন তো আছেই। চৌকস এই ফোন দিন দিন আরও চৌকস হয়ে উঠলেও তা যে আমাদের একই সঙ্গে বোকা বানাচ্ছে, তা নিয়েই এখন মাথা চুলকে মরছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।
sp
স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটা গাড়িতে চড়ার মতো। বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের জন্য হাঁটার চেয়ে গাড়ির ব্যবহার নিঃসন্দেহে সহজ ও দ্রুততর উপায়। তবে তা যে ধীরে ধীরে নিজের দুই পায়ের ওপর থেকে আস্থা কমিয়ে দেয়, তা আমাদের মাথায় থাকে না। ঠিক একইভাবে মস্তিষ্কের ওপর চাপ কমালে এর কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে চালকেরা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমসের (জিপিএস) দিকনির্দেশকের ওপর নির্ভর করে গাড়ি চালান, তাঁদের তুলনায় যাঁরা নিজের মস্তিষ্কের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে গাড়ি চালান তাঁদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা অনেক বেশি হয়। বিশ্লেষকেরা আরও বলেন, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তথ্য যেমন ভাই বা বোনের ফোন নম্বর বা স্থানীয় থানার ফোন নম্বর আমরা মনে রাখার চেয়ে আমাদের স্মার্টফোন বা ইন্টারনেটে রেখে দিই কিংবা ইন্টারনেট থেকে সহজে কীভাবে পাওয়া যাবে তা রপ্ত করে ফেলি। বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোনের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতা অনেকটা নিজের ব্যায়াম অন্য কাউকে দিয়ে করিয়ে নেওয়ার মতো।

প্রযুক্তিবিষয়ক লেখক নিকোলাস কার বলেন, ‘গুগলের সাহায্য নিয়ে আমরা যদি প্রতিনিয়ত সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া শুরু করি, তাতে হয়তো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাবে। কিন্তু তাতে আমরা সূক্ষ্ম ও গভীর চিন্তা করতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করতে পারব না।’ আরেকটি গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা সর্বদা ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তারা বেশি মানুষের সঙ্গে থাকতে বিরক্ত অনুভব করে। তারা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়ার ফলে অন্য সবকিছুই তাদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দিন দিন স্মার্টফোন আমাদের মস্তিষ্কের দীর্ঘস্থায়ী কার্যক্ষমতা কমিয়েও দিচ্ছে। পার্কে গিয়ে মুক্ত বাতাস আর পরিবেশ উপভোগ করার চেয়ে এখন ঘরের কোণে বসে ইউটিউবে মজার ভিডিও দেখাটাই আমাদের বিনোদন। আর এমন ডিজিটাল বিনোদনগুলোই আমাদের মস্তিষ্কের তথ্য ও অনুভূতি প্রক্রিয়াজাত করার অংশটুকু ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। এতে একসময় আমাদের মস্তিষ্ক গভীর চিন্তাশক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা হারাতে বসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পাখিদের দাঁত থাকে না কেন?

Share কখনো ভেবে দেখেছেন, পাখিদের দাঁত থাকে না কেন? গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন দারুণ এক তথ্য। পাখিদের দাঁত না থাকার পেছনে এটা অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তারা। একধরনের ডায়নোসর প্রজাতির খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যাদের দুধের ...

৮ ফেব্রুয়ারির পর বন্ধ হয়ে যাবে জি-মেইল

Share চলতি মাসেই বন্ধ হচ্ছে অনেকের জি-মেইল অ্যাকাউন্ট। আপনি জানেন কি কারণে আপনার জি-মেইল অ্যাকাউন্টাও বন্ধ হচ্ছে? কিছু নির্দিষ্ট শর্তে ৮ ফেব্রুয়ারির পর আর জি-মেইল ব্যবহার করা যাবে না। গুগল জানিয়েছে, ডেস্কটপ বা ল্যাপটপে যারা ...