আজ : সোমবার, ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুলাই, ২০১৮ ইং, ৯ই জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী, সকাল ১০:১২,

ইসলামে যেসব অধিকারের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে সমান

সুখকর দাম্পত্য জীবন, সুশৃঙ্খল পরিবার, পরার্থপরতায় ঋদ্ধ ও সমৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন অটুট রাখার জন্য স্বামী বা স্ত্রীর উভয়েরই কিছু দায়িত্ব থাকে। দুজনেরই সমান আন্তরিকতা এবং ভালবাসায় সুখকর হয়ে উঠতে পারে পরিবার জীবন।
hw
ইসলাম যেমন জীবন সঙ্গিনীর উপর স্বামীর কতিপয় অধিকার আরোপ করেছে, তেমনি সঙ্গির উপর স্ত্রীর কিছু অধিকার আরোপ করেছে।

যেসব অধিকারের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে সমান নিম্নে সেই বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হল:

১.দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সততা, বিশ্বস্ততা ও সদ্ভাব প্রদর্শন করা:
যাদের মাঝে নিবিড় বন্ধুত্ব, অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক, অধিক মেলামেশা, সবচেয়ে বেশি আদান-প্রদান তারাই স্বামী এবং স্ত্রী। এ সম্পর্কের চিরস্থায়ী রূপ দিতে হলে ভাল চরিত্র, পরস্পর সম্মান, নম্র-ভাব, হাসি-কৌতুক এবং অহরহ ঘটে যাওয়া ভুলচুক ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা অবশ্যম্ভাবী। এবং এমন সব কাজ, কথা ও ব্যবহার পরিত্যাগ করা, যা উভয়ের সম্পর্কে চির ধরে কিংবা মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। আল্লাহ বলেন—
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ سورة النساء. ﴿النساء : ১৮﴾
‘তাদের সাথে তোমরা সদ্ভাবে আচরণ কর।’[৩] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
خيركم خيركم لأهله وأنا خيركم لأهلي. ابن ماجه (১৯৬৭)
‘তোমাদের মাঝে যে নিজের পরিবারের কাছে ভাল, সেই সর্বোত্তম। আমি আমার পরিবারের কাছে ভাল।’[৪] পরস্পর সদ্ভাবে জীবন যাপন একটি ব্যাপক শব্দ। এর মাঝে সমস্ত অধিকার বিদ্যমান।

২. পরস্পর একে অপরকে উপভোগ করা:
এর জন্য আনুষঙ্গিক যাবতীয় প্রস্তুতি ও সকল উপকরণ গ্রহণ করা। যেমন সাজগোজ, সুগন্ধি ব্যবহার এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ দুর্গন্ধ ও ময়লা কাপড় পরিহার ইত্যাদি। স্বামী-স্ত্রী প্রত্যেকের এ বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা। অধিকন্তু এগুলো সদ্ভাবে জীবন যাপনেরও অংশ।
ইবনে আব্বাস রা. বলেন—
إني لأحب أن أتزين للمرأة كما أحب أن تتزين لي.
‘আমি যেমন আমার জন্য স্ত্রীর সাজগোজ কামনা করি, অনুরূপ তার জন্য আমার নিজের সাজগোজও পছন্দ করি।’ তবে পরস্পর এ অধিকার নিশ্চিত করার জন্য উভয়কেই হারাম সম্পর্ক ও নিষিদ্ধ বস্তু হতে বিরত থাকতে হবে।

৩. বৈবাহিক সম্পর্কের গোপনীয়তা রক্ষা করা:
সাংসারিক সমস্যা নিয়ে অন্যদের সাথে আলোচনা না করাই শ্রেয়। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে উপভোগ্য বিষয়গুলো গোপন করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
إنّ من أشرّ الناس عند الله منزلة يوم القيامة: الرجل يفضي إلى امرأته و تفضي إليه ثم ينشر سرها. مسلم (২৫৯৭)
কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে সর্ব-নিকৃষ্ট ব্যক্তি সে, যে নিজের স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় এবং যার সাথে তার স্ত্রী মিলিত হয়, অতঃপর সে এর গোপনীয়তা প্রকাশ করে বেড়ায়।[৫]

৪.পরস্পর শুভকামনা করা, সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়া:
আল্লাহর আনুগত্যের ব্যাপারে একে অপরকে সহযোগিতা করা। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে একে অপর থেকে উপদেশ পাওয়ার অধিক হকদার। দাম্পত্য জীবন রক্ষা করা উভয়েরই কর্তব্য। আর এর অন্তরভূক্ত হচ্ছে, পরস্পর নিজ আত্মীয়দের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করা ।

সন্তানদের লালন-পালন ও সুশিক্ষার ব্যাপারে উভয়েই সমান, একে অপরের সহযোগী। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى. ﴿المائدة : ২﴾
‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ব্যপারে পরস্পরকে সহযোগিতা কর।’[৬]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কোরবানী ঈদে কুমিল্লায় ৩ লাখ পশুর চাহিদা, মজুদ সংকট

Share নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক সোনালী দেশ ● আসন্ন ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে কুমিল্লা জেলায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে মজুদ সংকট রয়েছে। এদিকে ভারত-বার্মার গরু আসতে পারে বলে লাভ নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন কুমিল্লার কৃষক ও খামারিরা। ...

অনেক বছর বাঁচবো ভেবে যারা নামাজ পড়ে না, তাদের জন্য

Share যারা নামায পড়েনা তাদের জন্য আল্লাহ্ পাক পনেরটি আজাব নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। বেনামাজি মুসলিমরা মনে করেন তারা অনেক বছর বাঁচবেন, এতো তাড়াতাড়ি নামাজ পড়ে লাভ কি ? তবে বেনামাজিরা জানেন না, পনেরটি আজাবের মধ্যে ...