আজ : সোমবার, ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ২রা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী, সকাল ৬:৪৭,

পাথরকন্যা জাফলংয়ের পথে

1435226364.::মো. অহিদ উল্লাহ পাটোয়ারী::
‘ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ’ দলের বন্ধুরা সিলেট গিয়ে পৌঁছালাম। তখনই সকাল ৬টা। আগের রাতে পথে একটি হোটেলে মধ্যরাতের নাস্তা করায় সকালের নাস্তার প্রয়োজন হয়নি। দলে ছিল ইব্রাহিম, জাহাঙ্গীর, চঞ্চল, মুকুল, স্বপন মামা আর আমি। বাস থেকে নেমেই সিএনজি খুঁজতে লাগলাম, পেয়েও গেলাম। কিন্তু ভাড়া শুনে ‘ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ’ দলের বন্ধুদের মাথাও ঘুরে উঠল। কদমতলী থেকে দরগাঁহ গেইট যেতে ভাড়া চাচ্ছে ৩’শ টাকা। মনে মনে বললাম, চাইবে না কেন? সিলেটিদের তো আবার লন্ডটি পয়সা। পরে আড়াই’শ টাকা ঠিক করলাম। হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহ্ পরানের মাজার জেয়ারত করেই জাফলংয়ের পথে। হাওর-বাওড়ের অঞ্চল সিলেট। যতদূর চোখ যায় শুধু হাওর আর বাওড়। কিছু কিছু হাওর শুকিয়ে যাওয়ায় মনের সুখে চরে বেড়াচ্ছে গরু-ছাগল, আবার কোন কোন হাওরে উতাল-পাতাল পানিও। তাতে ফুটে রয়েছে লাল সাদা শাপলা। সবুজ পাহাড়ের মধ্য দিয়ে পথ। বৃষ্টি বিধৌত পাহাড়ি ঢলে ঐতিহ্যবাহি একটি কুড়ি দুটি পাতা আর দিগন্ত বি¯তৃত খাসিয়া জয়ন্তিয়া পাহাড়। কালো কুচকুচে রাস্তাছাড়া আশপাশের সবই সবুজ। ঝকঝকে নীল আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে পেজা তুলোর মতো সাদা মেঘ। কিছুক্ষণ পরপর পাহাড়ের গাঁ বেয়ে রূপালী ফিতার মতো সরু পানির ধারা নেমে আসছে, যা বর্ষাকালে হয়ে উঠবে উদ্যানের ঝরনা ধারা। অবশেষে কাঙ্খিত গন্তব্য পাথর কন্যার পানে। যেদিকে তাকাই শুধু পাথর আর পাথর। স্বচ্ছ জলের সারি নদীর পেটভর্তি হয়ে আছে বর্ণিল পাথরে। আর তাইতো এখানকার লোকজন জাফলংকে বলে পাথর কন্যা।

নদী থেকে পাথর তুলে নৌকা দিয়ে আনা হয় পাড়ে। পরে তা ট্রাকে করে পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরে। বিস্ময় সৌন্দর্য নিয়ে খাসিয়া পাহাড়ের কোলে সারি নদীর পাড়ে জাফলংয়ের অবস্থান। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে ভারতের সীমান্তঘেষা দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই জনপদকে। এবার একটা ইঞ্জিননৌকা ঠিক করা হলো। একেবারে জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত। নৌকা কিছু দূর যেতেই নদীর পাশে টিলায় বিএসএফ ক্যাম্প। মাঝি হিন্দি বাংলা মিশিয়ে চিৎকার করে আরেকটু এগোনোর অনুমতি নিয়ে নিল। জাফলংয়ের নদীর ওপাশেই ভারতের ডাউকি এলাকা। পাহাড়ের গাঁয়ে লোকালয় সাদা, হলুদ, নীল ও সবুজ দালান। ভারতের মধ্যেই পড়েছে জাফলংয়ের সেই বিখ্যাত পটভূমি ঝুলন্ত সেতু। স্বচ্ছ জলের স্রোতে নৌকা থামিয়ে অপেক্ষা করি সেতুর কাছে গিয়ে। পাহাড়গলা হিম হিম পানি দেখে লোভ সামলাতে পারলাম না। পা ভাসিয়ে দিলাম পানিতে। পায়ে পানির ছোয়া লেগেছে, আর কার সাধ্য আছে ‘ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ” এর দলকে পানি থেকে দূরে রাখে।

কিভাবে যাবেন:  ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাফুল, গাবতলী ও কলাবাগান থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস সিলেট যায়। ভাড়া ৫’শ থেকে ১ হাজার টাকা। শহরের কদমতলী, হুমায়ন চত্ত্বর ও আম্বরখানা থেকে লোকাল বাস যায় জাফলং, ভাড়া ৭০টাকা কিংবা চাইলে মাইক্রো রিজার্ভ করেও যেতে পারেন।

লেখক: মো. অহিদ উল্লাহ পাটোয়ারী
প্রতিষ্ঠাতা- ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ, কুমিল্লা।
মোবাইল- ০১৭২৬৬০৭৫৯০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অজগর দিয়ে শরীর ম্যাসাজ!

Share চেহারা সুন্দর রাখতে আমরা কত কিছুই না করি! ত্বককে আরাম দিতে মাসে এক বার হলেও স্পা, নানা রকম উপাদেয় দিয়ে স্বাস্থ্যকর ম্যাসাজ করে থাকি। কখনো কি শুনেছেন, একটা অাস্ত অজগর দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করার কথা? ঠিক ...

অনাথ, অসহায়ের শাসনকর্তা হতে চাই: ইমরান

Share ভোটগণনায় ইমরানের ক্ষমতায় আসা প্রায় নিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত ১৩৭-এর ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পারলেও বিলাবল জারদারির পিপিপি-র সঙ্গে জোটের রাস্তাও প্রায় পাকা। ফলে পাক প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন ...