আজ : বৃহস্পতিবার, ৩রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং, ৭ই সফর, ১৪৪০ হিজরী, ভোর ৫:২২,

পাথরকন্যা জাফলংয়ের পথে

1435226364.::মো. অহিদ উল্লাহ পাটোয়ারী::
‘ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ’ দলের বন্ধুরা সিলেট গিয়ে পৌঁছালাম। তখনই সকাল ৬টা। আগের রাতে পথে একটি হোটেলে মধ্যরাতের নাস্তা করায় সকালের নাস্তার প্রয়োজন হয়নি। দলে ছিল ইব্রাহিম, জাহাঙ্গীর, চঞ্চল, মুকুল, স্বপন মামা আর আমি। বাস থেকে নেমেই সিএনজি খুঁজতে লাগলাম, পেয়েও গেলাম। কিন্তু ভাড়া শুনে ‘ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ’ দলের বন্ধুদের মাথাও ঘুরে উঠল। কদমতলী থেকে দরগাঁহ গেইট যেতে ভাড়া চাচ্ছে ৩’শ টাকা। মনে মনে বললাম, চাইবে না কেন? সিলেটিদের তো আবার লন্ডটি পয়সা। পরে আড়াই’শ টাকা ঠিক করলাম। হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহ্ পরানের মাজার জেয়ারত করেই জাফলংয়ের পথে। হাওর-বাওড়ের অঞ্চল সিলেট। যতদূর চোখ যায় শুধু হাওর আর বাওড়। কিছু কিছু হাওর শুকিয়ে যাওয়ায় মনের সুখে চরে বেড়াচ্ছে গরু-ছাগল, আবার কোন কোন হাওরে উতাল-পাতাল পানিও। তাতে ফুটে রয়েছে লাল সাদা শাপলা। সবুজ পাহাড়ের মধ্য দিয়ে পথ। বৃষ্টি বিধৌত পাহাড়ি ঢলে ঐতিহ্যবাহি একটি কুড়ি দুটি পাতা আর দিগন্ত বি¯তৃত খাসিয়া জয়ন্তিয়া পাহাড়। কালো কুচকুচে রাস্তাছাড়া আশপাশের সবই সবুজ। ঝকঝকে নীল আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে পেজা তুলোর মতো সাদা মেঘ। কিছুক্ষণ পরপর পাহাড়ের গাঁ বেয়ে রূপালী ফিতার মতো সরু পানির ধারা নেমে আসছে, যা বর্ষাকালে হয়ে উঠবে উদ্যানের ঝরনা ধারা। অবশেষে কাঙ্খিত গন্তব্য পাথর কন্যার পানে। যেদিকে তাকাই শুধু পাথর আর পাথর। স্বচ্ছ জলের সারি নদীর পেটভর্তি হয়ে আছে বর্ণিল পাথরে। আর তাইতো এখানকার লোকজন জাফলংকে বলে পাথর কন্যা।

নদী থেকে পাথর তুলে নৌকা দিয়ে আনা হয় পাড়ে। পরে তা ট্রাকে করে পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরে। বিস্ময় সৌন্দর্য নিয়ে খাসিয়া পাহাড়ের কোলে সারি নদীর পাড়ে জাফলংয়ের অবস্থান। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে ভারতের সীমান্তঘেষা দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই জনপদকে। এবার একটা ইঞ্জিননৌকা ঠিক করা হলো। একেবারে জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত। নৌকা কিছু দূর যেতেই নদীর পাশে টিলায় বিএসএফ ক্যাম্প। মাঝি হিন্দি বাংলা মিশিয়ে চিৎকার করে আরেকটু এগোনোর অনুমতি নিয়ে নিল। জাফলংয়ের নদীর ওপাশেই ভারতের ডাউকি এলাকা। পাহাড়ের গাঁয়ে লোকালয় সাদা, হলুদ, নীল ও সবুজ দালান। ভারতের মধ্যেই পড়েছে জাফলংয়ের সেই বিখ্যাত পটভূমি ঝুলন্ত সেতু। স্বচ্ছ জলের স্রোতে নৌকা থামিয়ে অপেক্ষা করি সেতুর কাছে গিয়ে। পাহাড়গলা হিম হিম পানি দেখে লোভ সামলাতে পারলাম না। পা ভাসিয়ে দিলাম পানিতে। পায়ে পানির ছোয়া লেগেছে, আর কার সাধ্য আছে ‘ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ” এর দলকে পানি থেকে দূরে রাখে।

কিভাবে যাবেন:  ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাফুল, গাবতলী ও কলাবাগান থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস সিলেট যায়। ভাড়া ৫’শ থেকে ১ হাজার টাকা। শহরের কদমতলী, হুমায়ন চত্ত্বর ও আম্বরখানা থেকে লোকাল বাস যায় জাফলং, ভাড়া ৭০টাকা কিংবা চাইলে মাইক্রো রিজার্ভ করেও যেতে পারেন।

লেখক: মো. অহিদ উল্লাহ পাটোয়ারী
প্রতিষ্ঠাতা- ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ, কুমিল্লা।
মোবাইল- ০১৭২৬৬০৭৫৯০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কুমিল্লাকে দ্রুততম সময়ে বিভাগ করার জোর দাবি

Share রিকু আমির : নামকরণ যা-ই হোক, কুমিল্লাকে দ্রুততম সময়ে বিভাগ করার জোর দাবি উঠেছে বৃহত্তর কুমিল্লা (কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-চাঁদপুর) সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত একটি সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান থেকে। গত রোববার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের প্রয়াত ...

খুলনায় নির্ভার আ.লীগ, শঙ্কায় বিএনপি!

Share খুলনা সিটি নির্বাচন কাল ২৩৪ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ভোট ডাকাতি ও নাশকতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপির দেড় শ নেতা কর্মী গ্রেপ্তার বলে দাবি নগরীতে নেমেছে ১৬ প্লাটুন বিজিবি প্রচারণা শেষ। রাত পোহালেই ভোট। খুলনা সিটি নির্বাচনে ...