আজ : সোমবার, ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুলাই, ২০১৮ ইং, ৯ই জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী, সকাল ১০:০৯,

কেমন কাটছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে আসা সেই তরুণীর সংসার

কথায় আছে প্রেম মানে না কোনো বাধা। আর তাই সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবলা করে প্রেমের টানে নির্ভয়ে সাত সাগর তের নদী পারি দিতে পারে প্রেমিক- প্রেমিকা।
love
এমনই একটি উদাহারণ হলো বাংলাদেশের ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের তরুন মিঠু বিশ্বাস ও আমেরিকান তরুণী এলিজাবেথের প্রেমের গল্প।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের রাখালগাছি গ্রামের নির্মল বিশ্বাসের ছেলে মিঠুন বিশ্বাসের। সমাজ উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত মিঠুনের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটর সিটির রয় এমলিকের কন্যা এলিজাবেথের।

ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম আর তারপর বাংলাদেশ আর যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব ঘুচিয়ে এখন পরিণয়ে আবদ্ধ। তাই ঝিনাইদহে মিঠুনের প্রেমের সফল পরিণতি ঝিনাইদহের মানুষের মুখে মুখে।

মিঠুন বিশ্বাস জানন, ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ফেসবুকে এলিজাবেথের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর দু’ জনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে আমরা পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলি। আড়াই বছরের সম্পর্কের পর আমরা সিদ্ধান্ত নেই বিয়ে করার।

মিঠুন জানান, ‘আমরা আমাদের সিধান্তের কথা দু পরিবারকে জানালে আমাদের পরিবারের পক্ষ্য থেকে কোনো আপত্তি ছিলোনা। কিন্তু বাধা দিয়েছিলেন এলিজাবেথের পরিবার’।

‘আমার সঙ্গে পরিচয়ের পূর্বে এলিজাবেথ বাংলাদেশকে চিনতো না। আমাদের সম্পর্কের কথা এলিজাবেথের পরিবার জানলে তার পরিবার তাকে বাংলাদেশকে উগ্রপন্থী মুসলিম দেশ বলে ধারণা দেয়। বাংলাদেশে গেলে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে বিভিন্ন ভাবে এলিজাবেথকে ভয় দেখায় তার পরিবার’।

এ বিষয়ে এলিজাবেথ জানান, ‘মিঠুনকে বিশ্বাস করে আমি আমার পরিবারের অবাধ্য হয়ে বাংলাদেশে এসেছি। তাকে বিয়ে করেছি। আমি ওকে অনেক ভালোবাসি’।

‘আমি গ্র্যায়েজুয়েশন শেষ করেছে। এরপর পরিবারের বাধা পেলে প্রথমে আমি হতাশ হয়ে পড়ি। কিছুদিনের চেষ্টার পর ওয়ালমার্টে চাকরি পাই। টাকা জমানোর জন্য কয়েক মাস চাকরি সেখানে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করে ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসি’।

মিঠুন জানান, এলিজাবেথের বাংলাদেশে আসার খবর পেয়ে তার পরিবারের সবাই খুশি হয়। ২ জানুয়ারি পরিবারের সদস্য নিয়ে মিঠুন এয়ারপোর্ট থেকে তাকে নিয়ে আসেন নিজের গ্রামে। মিঠুনের পরিবারের সম্মতিতে ৪জানুয়ারি তাদের বাগদান সম্পন্ন হয়। ৯জানুয়ারি খুলনার শালক এজি চার্চে বিয়ে হয় তাদের।

এখন তাদের সংসার কেমন চলছে জানতে চাইলে মিঠুন বিশ্বাস জানন, ‘ফেসবুক আমাদেরকে অনেক কিছু দিয়েছে। ফেসবুকের মাধ্যমে আমি এলিজাবেথের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। আর শেষ পর্যন্ত আমরা সুখে-শান্তিতে সংসার করছি। এলিজাবেথ বাংলা বলতে শিখছে। বিয়ের আগে ওর পরিবার বাধা দিলেও এখন তারা এই বিয়ে মেনে নিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকবার কথাও হয়েছে এলিজাবেথের বাবা-মা ও দুই ভাইয়ের সঙ্গে। তারাও এখন খুশি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বাংলাদেশি কুরআনে হাফেজ সাকিবের বিশ্ব জয়

Share সৌদি আরবের মক্কা নগরীর হারাম শরিফে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেনে বাংলাদেশের ময়মনসিংহের হাফেজ নাজমুস সাকিব। সারা বিশ্বের ৭০টি দেশের প্রতিযোগীরা ওই জাকজমকপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে কাবা শরীফের ...

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবক নিহত

Share সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কক্সবাজার সদর উপজেলার এক যুবক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম রমজান আলী (২৯)। তিনি কক্সবাজার উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের পূর্ব নতুন মহাল এলাকার মৃত আবদুল ...