আজ : শনিবার, ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী, দুপুর ১:৫৩,

খাদিজা বললেন ‘ভালো আছি’

মিষ্টি হাসিমাখা মুখখানি আগ্রহী হয়ে উঠবে যে কেউ। গত বছরের ৩ অক্টোবরের পর খাদিজা বেগমকে যারা দেখেছেন, তারা কল্পনা করেননি, খাদিজা আবার কোনোদিন এমন মিষ্টি করে হাসবেন।
khadiza
তাকে উন্মত্তের মতো কুপিয়েছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম।

দূর থেকে অনেকেই সেটির ভিডিও করেছিল। কিন্তু কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। এরপর দীর্ঘদিন খাদিজা ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ছিল জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। অথচ এই ছবিটি মোটে দিন তিনেক আগে তোলা। তার ভাই শারনান হক শাহীন ছবিটি তুলে ফেসবুকে দিয়েছেন।

ঢাকার কাছে সাভারের সিআরপিতে ছবিটি তোলা। সেখানেই এখন চলছে খাদিজার পুনর্বাসন। টেলিফোনে এই রিপোর্টারের কথা বলার সুযোগ হয় খাদিজার সাথে।

জানতে চান, কেমন আছেন? ‘মোটামুটি ভালো আছি’। ছোট্ট উত্তর। শুনতে পেলাম আপনি এখন হাঁটাচলা করতে পারেন, ঘুরতে-টুরতেও যাচ্ছেন এখানে সেখানে? ‘এইতো একটু। বেশী না’। কি কষ্ট আপনার আছে এখন? ‘বাম হাতে আর বাম পায়ে’। ছোট ছোট বাক্যে এক দু-কথায় জবাব সারছিলেন তিনি।

খাদিজার ভাই শারনান হক বলছেন, ‘ডাক্তার আর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছাড়া আর কারো সাথে কথা বলতে চান না খাদিজা। শারনান হকের ফোনেই কথা হচ্ছিল এই প্রতিবেদকের।

তিনিই সিআরপিতে খাদিজার সার্বক্ষণিক সঙ্গী। তিনি চীনের বেইজিংয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র। শীতকালীন ছুটিতে বাংলাদেশে এসেছেন।

স্বাভাবিক খাওয়া দাওয়া, পড়াশোনা এগুলো এখন একটু একটু করতে পারেন বলে জানালেন খাদিজা। তবে বেশীরভাগ সময়েই তার কাটে ডাক্তারদের থেরাপি কক্ষে নয়তো বিছানায় শুয়ে।

এভাবে বেশীরভাগ সময় শুয়ে বসে কাটান বলে খুবই ‘বোর’ হচ্ছেন তিনি, তাই বিকেল বেলা তাকে দেয়া হচ্ছে সিআরপির কম্পাউন্ডে ঘুরে বেড়ানোর অনুমতি।

আর গত সোমবার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করার পর তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় সিআরপি কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায়।

খাদিজার কাছে জানতে চাই, যেদিন তাকে কোপানো হয়েছিল সেদিনকার কথা মনে আছে তার?

খাদিজা বললেন, ‘কিছু মনে নেই’। তারপর পাশে বসা ভাইয়ের হাতে ফোনটি দিয়ে দিলেন। এখানেই শেষ খাদিজার সঙ্গে এই রিপোর্টারের আলাপচারিতা।

খাদিজার ভাই শারনান হক জানাচ্ছেন, ওই ঘটনা নিয়ে কথা বলতে চান না খাদিজা।
কিন্তু আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি সিলেটের আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার কথা আছে তার।

সেই দিনকে সামনে রেখে সিআরপি কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে তাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়ার একটি তোড়জোড় আছে।

সেখানে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে খাদিজাকে হয়তো সেদিনের ঘটনার বিবরণ দিতে হবে। ওদিকে শারনান হক বললেন, ওইদিনের কথা বললে খাদিজার ‘ডিপ্রেশন’ হয়।

সে কবে নাগাদ পুরোপুরি সুস্থ হবে সেই দিনক্ষণ এখনো নিশ্চিত করেনি সিআরপি। তবে পুরো সুস্থ হলে খাদিজা আবার তার লেখাপড়ার জীবনে ফিরে যেতে চান সেই কথাটা আলাপচারিতার এক ফাঁকেই তিনি জানিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ট্রেনের অগ্রিম টিকিট পেতে নির্ঘুম রাত

Share স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে সোমবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে। ট্রেনের অগ্রিম টিকিট পেতে রোববার রাত থেকেই কমলাপুর রেল স্টেশনে ভিড় করছে শত শত মানুষ। লাইনে ...

এক বছরে খেলাপী ঋণ ১১ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে

Share সোনালী দেশ ডেস্ক: দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। তবুও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরছে না। উদ্যোক্তারা নতুন করে বিনিয়োগে আসছেন না। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেকেই শিল্পকারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন ব্যাংকের ঋণ ...