আজ : শুক্রবার, ৮ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ২২শে মার্চ, ২০১৯ ইং, ১৪ই রজব, ১৪৪০ হিজরী, বিকাল ৪:৫৯,

সুনামগঞ্জে জলমহাল দখল নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৩

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের জারালিয়ায় জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে ইজারাদার ও স্থানীয় একরার বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক।
hamla
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- দিরাই উপজেলার জারুলিয়া গ্রামের শান উল্লাহর ছেলে তাজুল ইসলাম (৩৫), আকিলনগর গ্রামের ইছাক মিয়ার ছেলে শাহারুল (২২) ও একই এলাকার আমানুল্লাহর ছেলে উজ্জ্বল (৩০)।

এদের মধ্যে তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। শাহারুল ও উজ্জ্বলকে আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শাহরুল এবং ৫টার দিকে উজ্জ্বল মারা যান।

নিহতরা একারার হোসেন পক্ষের লোক বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হাতিয়া গ্রামের মিরাস মিয়ার ছেলে আল আমিন (২৪), সুনাফর (২৭) এবং উত্তর সুরিয়ারপার গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে মালেক মিয়াকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত অন্যদের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জলমহালের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাসুদ মিয়া ও একই এলাকার একরার চৌধুরীর মধ্যে বিরোধ চলছে। মঙ্গলবার দুপুরে ওই জলমহালে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এসময় এলোপাতাড়ি গোলাগুলিতে ঘটনাস্থলেই তাজুল ইসলাম নিহত হন। শাহরুল ও উজ্জ্বলসহ আহত হন অর্ধশতাধিক। পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহরুল ও উজ্জ্বল মারা যান।

নিহত তাজুলের লাশ দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্যে সুনামগঞ্জে পাঠায়।

ইজারাদার ধনঞ্জয় দাসের পক্ষের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মাসুক মিয়া জানান, সরকারকে যথাযথ খাজনা প্রদান করে দখল প্রাপ্ত হয়ে আমরা জলমহাল ভোগ-দখল করে আসছি। ১১টার দিকে একরার ও তার বাহিনীর ৩০/৩২ লোক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আমাদের খলাঘরে মৎস্যজীবীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ভয়ে খলাঘর থেকে দিগ্বিদিক পালাতে গিয়ে আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন।

তিনি দাবি করে বলেন, কিছুদিন আগেও একরার ও তার বাহিনীর লোকজন অবৈধ বন্দুক, পাইপগান নিয়ে অতর্কিতভাবে আমাদের জলমহালে প্রবেশ করে মাছ লুট করে এবং খলাঘর দখল নিতে গুলি চালিয়েছিল।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বরাবরে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় দাস লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলেও জানান মাসুক মিয়া।

একারার হোসেন দাবি করেন, ইজারাদারদের কাছ থেকে তিনি ছয় বছরের জন্য সাব-লিজ নিয়ে জলমহাল দখলে আছেন। ঘটনার দিন প্রতিপক্ষের লোকজন তার লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

দিরাই থানার ওসি আবদুল জলিল জানান, মঙ্গলবার ১১টার দিকে একারার ৩০/৩২ জন লোক নিয়ে জলমহালে দখল করতে গেলে ইজারাদার ধনঞ্জয়ের লোকজনের সঙ্গে একরারের লোকজনের সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দ‌ক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্য চুইঝাল!

Share মৃত্যুঞ্জয় রায়, খুলনা: খুলনা বিভাগে চুইঝাল এত জনপ্রিয় যে একে খুলনার কৃষিপণ্য হিসেবে ব্র্যান্ডিং করাই যায়। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারে আব্বাসের হোটেল চুইঝাল দিয়ে রান্না করা খাসির মাংসের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। চুইঝাল-মাংস খুলনার ...

অনুশীলন সাহিত্য পরিষদের কুমিল্লা জেলা শাখার কমিটি গঠন

Share স্টাপ রিপোর্টার, সোনালী দেশ: “প্রেরণায় ৫২ চেতনায় ৭১” এ শ্লোগানকে বুকে ধারণ করে অনুশীলন সাহিত্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১২ অক্টোবর কুমিল্লা নজরুল ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে পরিষদের আহব্বায়ক জহিরুল ইসলাম ...